প্লট জালিয়াতি: জয়-পুতুলের ৫ বছর করে কারাদণ্ড

প্লট জালিয়াতি: জয়-পুতুলের ৫ বছর করে কারাদণ্ড
সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও সজীব ওয়াজেদ জয়। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

পূর্বাচল প্রকল্পে প্লট জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আলাদা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে জয়কে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এ রায় দেন।

বিচারক বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতি করে নিজে আগে প্লট নিয়েছেন। যা সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূত। তিনি এখানেই শেষ করেননি। অনিয়ম করে নিজে প্লট নিয়ে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কেও প্লট দেন।

শেখ হাসিনা ও তার দুই সন্তানসহ এই তিন মামলায় আসামির সংখ্যা ৪৭। তবে একই ব্যক্তির নাম একাধিক মামলায় থাকায় ব্যক্তি হিসাবে আসামির সংখ্যা ২৩।

আরও পড়ুন

প্রথম মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১২ জন, দ্বিতীয় মামলায় শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৭ জন এবং তৃতীয় মামলায় শেখ হাসিনা, তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৮ জন আসামি।

তিন মামলায় রাজউকের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকারকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এছাড়া সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে প্রতিটি মামলায় এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এসব মামলার ২২ আসামিই পলাতক। কেবল আত্মসমর্পণ করে কারাগারে ছিলেন রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। রায় ঘোষণার জন্য তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।

প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে চলতি বছর জানুয়ারি মাসে ছয়টি মামলা করে দুদক। পরবর্তীতে সব মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ইতিমধ্যে তিনটি মামলার বিচার শেষ হয়েছে। শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যসহ ২২ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। গত ১০ নভেম্বর শেখ হাসিনা পরিবারের তিন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরপর ১৭ নভেম্বর আত্মপক্ষ শুনানিতে খুরশীদ আলম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

এর আগে গত ৩১ জুলাই এ তিন মামলাসহ পৃথক ছয় মামলায় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পরিবারের সাত সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন আদালত। এসব মামলায় শেখ পরিবারের অপর আসামিরা হলেন- শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক। শেখ পরিবার ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম এবং উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর