তফসিলি ব্যাংক হিসেবে আগ্রহপত্র বা লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেওয়ার ২১ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত লাইসেন্স পেয়েছে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’।
সোমবার সরকারের কাছে এই লাইসেন্স হস্তান্তর করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের পক্ষে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকটির লাইসেন্স বুঝে নেন অতিরিক্ত সচিব আজিমুদ্দিন বিশ্বাস ও যুগ্ম সচিব শেখ ফরিদ।
এর আগে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদ ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ কে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান করা হয় সাবেক সচিব মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়াকে।
এর পরদিনই লাইসেন্স হস্তান্তর করে নতুন প্রতিষ্ঠানটিকে তফসিলি ব্যাংক হিসেবে তালিকাভুক্ত করল বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে মাত্র ২১ দিনের মধ্যে একটি ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হলো।
গত ৯ নভেম্বর এলওআই দেওয়ার পর চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়ার আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকে ‘চলতি হিসাব’ খোলা হয় ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ এর নামে।
নতুন ব্যাংকের বিষয়ে পরিপত্র জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ (রাষ্ট্রপতির ১৯৭২ সালের ১২৭ নম্বর আদেশ) এর ৩৭(২)(ক) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ মোতাবেক ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ রোজ সোমবার হইতে “সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি.” (Sammilito Islami Bank PLC.)-কে তফসিলি ব্যাংকরূপে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।’
সবশেষ ২০২০ সালে সিটিজেনস ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। এক বছর আগে অর্থাৎ ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদ এ দুটিসহ পিপলস ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় এলওআই দিয়েছিল।
প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ শেষে ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং ওই বছরের শেষের দিকে মহামারির সময়ে ৭ ডিসেম্বর সিটিজেনস ব্যাংকের চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হয়। শর্ত পূরণ ও মূলধনের বৈধ উৎস দেখাতে না পারায় পিপলস ব্যাংকে চূড়ান্ত লাইসেন্স না দিয়ে এলওআই বাতিল করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মোট ৩৫ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের শরিয়াহভিত্তিক ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ ব্যাংকে রাষ্ট্র যোগান দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা।
রাষ্ট্রায়ত্ত নতুন এ ব্যাংকটি আর্থিক সংকটে জেরবার হওয়া শরিয়াহভিত্তিক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংককে আত্মীকরণ করবে।
ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের অধীনে এখন ব্যাংকেগুলোতে প্রশাসক বসিয়ে চালাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।


