পাহাড়িদের আন্দোলন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) চরম অন্তরায় বলে দাবি করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ইউপিডিএফ কোনো বিষয়েই আলোচনায় আসে না। অথচ তারা বারবার প্রশ্ন তোলে- এত বছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কতদূর এগিয়েছে এবং কিভাবে তা বাস্তবায়ন হবে।’
রোববার সকালে রাঙ্গামাটি আশিকা কনভেনশন কক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব অভিযোগ করেন।
ঊষাতন তালুকদার দাবি করেন, যে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি সই করেছিল, শুরুতে তারা আন্তরিক ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে চুক্তি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করতে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন দল গঠন করা হয়েছে।
‘জেএসএসের পার্টির নাম ‘শান্তিবাহিনী’ নয়; জনগণ এই নাম দিয়েছে’ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের জনগণ, জুম্ম জনগণকেই বলতে হবে- এটাই আসল পার্টি। তবে সংগঠনকে ভরসা করে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের মধ্যে যদি ভুল আচরণ ও চিন্তাধারা থাকে, তাহলে জুম্ম জনগণ আমাদের সঙ্গে এগিয়ে আসবে না।’
এ সময় দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে জেএসএসের সহসভাপতি জানান, সরকার গঠন হলে পাহাড়িদের কল্যাণে কতটুকু ভূমিকা রাখা যাবে- এ নিয়ে অনেকে জানতে চান। তবে নিজেরা সংগঠিত না হলে সরকার কিছু করতে পারবে না বলে মনে করেন তিনি।
‘নিজেদের দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। পার্টির কর্মী হিসেবে সে বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ এই পার্টি জনগণের জন্য। চাপিয়ে দেওয়া শৃঙ্খলা নয়, নিজ সচেতনতা থেকে দায়িত্ব ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে’, যোগ করেন তিনি।
‘বিভেদপন্থী ও জুম্ম স্বার্থপরিপন্থী সব ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করুন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হোন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেএসএস রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সভাপতি গঙ্গা মানিক চাকমা।
সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, এম এন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা, শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা এবং সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সভাপতি শান্তি বিজয় চাকমাসহ অন্যান্য নেতারা।


