মানিকগঞ্জে একটি নাটকের শুটিং সেটে অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সহশিল্পী সামিয়া অথইয়ে চড়–কাণ্ড নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে, আর বিষয়টি এখন গড়িয়েছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পর্যন্ত।
বুধবার (৪ মার্চ) অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন সামিয়া অথই । অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেন, শুটিংয়ের সময় তিশা তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন, গালিগালাজ করেন এবং হুমকিও দেন। এমনকি তিনি সংঘে অভিযোগ করার কথা বললে তিশা নাকি তাচ্ছিল্য করে বলেন, ‘ভাইরাল হতে চাও? যাও জানাও।’
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার মাইলাগী গ্রামে পরিচালক রাফাত মজুমদার রিংকু পরিচালিত পুতুলের বিয়ে নাটকের শুটিংয়ে ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৩ মার্চ)। ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টা থেকে শুটিং শুরু হয়। শুরুতে অন্য শিল্পীদের দৃশ্য ধারণ করা হলেও বিকেল তিনটার দিকে তানজিন তিশা ও সামিয়া অথই র একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের শুটিং হয়।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফেসবুক লাইভে এসে সামিয়া অথই অভিযোগ করেন, দৃশ্য ধারণের সময় তানজিন তিশা তাকে একাধিকবার চড় মারেন। তার ভাষ্য, “তিনি সিনের মধ্যেই আমাকে মেরেছেন। মেরে আমার গাল ফুলিয়ে দিয়েছেন, চোখও ফুলে গেছে।” অথই র দাবি, চিত্রনাট্য অনুযায়ী তাকে তিশাকে একটি চড় মারার কথা ছিল, কিন্তু তিশার পাল্টা চড় মারার কোনো নির্দেশনা ছিল না। তবু তিনি একাধিকবার আঘাত করেন।
তবে নাটকটির পরিচালক রাফাত মজুমদার বলেন, চিত্রনাট্যে মূলত তিশাকে চড় মারার একটি অংশ থাকলেও শেষ রিহার্সালে সেটি বাদ দেওয়া হয়েছিল। তার মতে, অথই যেহেতু তিশাকে চড় মেরেছেন, এরপর তিশাও প্রতিক্রিয়ায় চড় মেরেছেন। তবে এই বিষয়ে দুই শিল্পীর আলাদা রিহার্সালের সময় কোনো চড়ের দৃশ্য ছিল না বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, সামিয়া অথই প্রথমে একটি চড় মারার পর তানজিন তিশা তাকে কয়েকটি চড় মারেন।
ঘটনার পরপরই শুটিং সেট ছেড়ে ঢাকায় ফিরে আসেন সামিয়া অথই । তার দাবি, নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি সেট ত্যাগ করেন। পরে অসুস্থ বোধ করায় হাসপাতালে চিকিৎসাও নেন। তার অভিযোগ, তিশার চড় খাওয়ার পর থেকে চোখে ঝাপসা দেখছেন।
তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন তানজিন তিশা। তিনি বলেন, ঘটনাটি ব্যক্তিগত কোনো আক্রমণ নয়; বরং চরিত্রের প্রয়োজনে যা হয়েছে, তা গল্পের চাহিদা অনুযায়ীই হয়েছে। তিশার ভাষ্য, তিনি নাটকে একজন স্পেশাল চাইল্ডের চরিত্রে অভিনয় করছেন, যেখানে চরিত্রটির আচরণ অপ্রত্যাশিত ও আক্রমণাত্মক হতে পারে।
এদিকে ফেসবুক লাইভে ঘটনাটি প্রকাশ করায় অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ একটি বিবৃতিতে জানায়, কোনো সদস্যের সঙ্গে মতভেদ বা জটিলতা তৈরি হলে তা আগে সংগঠনকে অবহিত করা উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করা সংগঠনের আচরণবিধির পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত সংঘের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সংগঠনটি পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে জানা গেছে।


