সমঝোতা ও গণতন্ত্রের রাজনীতির পথে যাওয়ার এখনই সময় বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এদিন বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি। পরে সেখানে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তিনি।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে রাষ্ট্রপতি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকি কাজও দ্রুততম সময়ে শেষ করা হবে। ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। এর ফলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়বে এবং শিক্ষা ও গবেষণার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান ও কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়টিকে নিজেদের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে এর উন্নয়ন ও সুরক্ষায় স্থানীয় জনগণকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, জনগণের দাবির কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তাই এর উন্নয়ন ও সুরক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
এর আগে নাগরিক সংবর্ধনায় বক্তব্য দেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে তিনি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। জেলার বিমানবন্দর চালুর জন্যও কাজ চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষের উন্নতির জন্য নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে এবং বেকারত্ব দূর করতে হবে। তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই তার প্রথম সরকারি সফর।
দুই দিনের সরকারি সফরে রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে সার্কিট হাউসে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। বিকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেন তিনি।


