ছিনতাইয়ের প্রতিবাদ করায় সাকিবকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৮

ছিনতাইয়ের প্রতিবাদ করায় সাকিবকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৮
চান্দগাঁওয়ে হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৭। উদ্ধার করা হয় অস্ত্র। ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

এক ব্যক্তির ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া কাল হয়ে দাঁড়ায় মোহাম্মদ সাকিবের (২৩)। ছিনতাইয়ের ঘটনার প্রতিবাদ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা। সেই ক্ষোভ থেকে পরিকল্পিতভাবে সাকিবকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

রোববার বিকাল ৩টায় র‌্যাব-৭ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন সিপিসি-৩ কোম্পানি কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম।

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার বহুল আলোচিত এই প্রকাশ্য হত্যা মামলার মূল আসামিসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৭। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নগরী, চট্টগ্রাম জেলা ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দেশীয় তৈরি চাইনিজ কুড়াল ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন মো. ইমন (২২), মো. রায়হান (২৫), মো. শাহেদ সালমান (২২), মোহাম্মদ হোসেন (২২), হাসান মোহাম্মদ রবিউল (২১), মো. সাকিব হোসেন (১৮), মো. আছমান (২৩) ও ফয়সাল (২৩)।

নিহত মোহাম্মদ সাকিব চান্দগাঁও থানার বিসিক এলাকার একটি ময়দার মিলের কর্মচারী ছিলেন।

র‌্যাবের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের আট থেকে ১০ দিন আগে গ্রেপ্তারদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ইমন এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন ছিনতাই করেন। সাকিব ওই ঘটনার প্রতিবাদ করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে তিনি প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেন।

আরও পড়ুন

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাকিবের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ইমন ও তার সহযোগীরা। মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রতিবাদ ও ফোন উদ্ধারের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সাকিবকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

গত ২০ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সাকিব তার এক প্রতিবেশীকে নিয়ে অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ইমনসহ তার সহযোগীরা সাকিবকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে দেয়। এরপর ধারালো ছুরি দিয়ে তাকে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। হামলায় গুরুতর আহত সাকিবকে স্থানীয় লোকজন দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহত সাকিবের বাবা বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়।

সিপিসি-৩ কোম্পানি কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। পরে হত্যার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নগরী, চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকা ও কক্সবাজারে পৃথক অভিযান চালিয়ে মূল আসামিসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দেশীয় তৈরি চাইনিজ কুড়াল ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।

গ্রেপ্তার আট আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চান্দগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad