চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস ৩৯ টন আমদানি নিষিদ্ধ ঘনচিনি জব্দ করেছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি খালাসের শেষ পর্যায়ে জব্দ করে কাস্টমসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন ও রিসার্চ (এআইআর) টিম।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, এস পি ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান গত ৪ অক্টোবর চীন থেকে তিনটি কন্টেইনারে ৬৩ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি করে। আমদানি ঘোষণায় পণ্যের ধরন দেখানো হয় ‘পলিঅ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড’। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চালান খালাসের জন্য সি বার্ড করপোরেশন গত ৭ অক্টোবর ১৮২৮২৭৮ নম্বরের বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। পরে পণ্য ট্রাকে তোলার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ খালাস স্থগিত করে।
গত ২৮ অক্টোবরে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধির উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষায় দুই ধরনের পণ্যের অস্তিত্ব মেলে। নমুনা সংগ্রহ করে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য কাস্টমস ল্যাবে পাঠানো হয়।
পরীক্ষায় ২৪ মেট্রিক টন ‘পলিঅ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড’ শনাক্ত হলেও বাকি ৩৯ মেট্রিক টন ঘনচিনি হিসেবে নিশ্চিত করা হয়। ঘনচিনি এক ধরনের কৃত্রিম মিষ্টিকারক, যা সাধারণ চিনির চেয়ে ৩০ থেকে ৫০ গুণ বেশি মিষ্টি।
নিম্নমানের মিষ্টান্ন, বেকারি, আইসক্রিম, কোমল পানীয়, জুস, চকলেট, কনডেন্সড মিল্ক এবং শিশু খাদ্যে কখনো কখনো এটি ব্যবহার করা হয়, যা ক্যানসারসহ লিভার ও কিডনির জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ অনুযায়ী ঘনচিনি আমদানি নিষিদ্ধ। কাস্টমস আইন ২০২৩ অনুযায়ী চালানটি আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস।


