দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে । চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাইপলাইনে তেল সরবরাহের মধ্য দিয়ে এই বাণিজ্যিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।
শনিবার সকালে পতেঙ্গার ডেসপাস টার্মিনালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘নতুন এ ব্যবস্থায় জ্বালানি তেলের অপচয় ও চুরি রোধের পাশাপাশি বছরে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় করবে পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।’
এ সময়, জ্বালানি খাতে দুর্নীতি ও অপচয় কমিয়ে প্রকল্প ব্যয় হ্রাস করার আহ্বান জানান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘ট্যাংকারে তেল সরবরাহে দেড় থেকে দুই দিন সময় লাগত। এখন পাইপলাইনের মাধ্যমে মাত্র ১২ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় জ্বালানি পৌঁছাবে। এ ছাড়া জ্বালানির অপচয় রোধ হবে প্রায় দুই শতাংশ।’
প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোরও তাগিদ দেন ফাওজুল কবির খান।

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে তার অধীনে থাকা তিন মন্ত্রণালয়ে অপচয় কমিয়ে বছরে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিপিসি চেয়ারম্যান মো. আমিন উল হাসান বলেন, ‘দেশে বছরে প্রায় ৬৫ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এতদিন সিংহভাগ জ্বালানি নৌপথে পরিবহন করা হতো। এতে ব্যয় হতো প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। নয়টি কোম্পানির ১৮০টি তেল ট্যাংকারের মাধ্যমে ৫০টি ডিপোতে তেল সরবরাহ করাও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।’
পাইপলাইনে তেল সরবরাহ শুরু করায় নদী পথে তেলের দূষণ কমবে বলেও জানান তিনি। সেই সঙ্গে পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার জন্য সবার সহযোগিতা চান বিপিসি চেয়ারম্যান।
এর আগে বার্তা সংস্থা বাসস শুক্রবার জানায়, ২০১৮ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) অর্থায়নে শুরু হওয়া ৩ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ গত মার্চে শেষ হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ পর্যন্ত ১৬ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের ২৪২ কিলোমিটার এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ফতুল্লা পর্যন্ত ১০ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের আরও ৮ কিলোমিটার পাইপ বসানো হয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লায় পেট্রোলিয়াম ডিপো স্থাপনসহ সিদ্ধিরগঞ্জে পদ্মা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের এবং ফতুল্লায় যমুনা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের রিজার্ভার বসানো হয়েছে।
বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা অয়েল কোম্পানির তত্ত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের বাস্তবায়নে নির্মিত এ প্রকল্পে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে পতেঙ্গার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকেই পুরো পাইপলাইনের তেল সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। বছরে এই প্রকল্প থেকে ৩২৬ কোটি টাকা আয় হবে। এর মধ্যে ৯০ কোটি টাকা খরচ হলেও কমবে অন্তত ২৩৬ কোটি টাকা।


