চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল এবং নিজেদের চাকরির সুরক্ষার নিশ্চয়তা চেয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে এ সমাবেশ হয়।
বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, রোববারের মধ্যে চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি না হলে অনশনসহ আন্দোলন জোরদার করবেন তারা।
বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভবনের প্রধান ফটকের সামনে সমাবেশটি হয়। একই দিন বেলা ৩টায় ঢাকায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটির চুক্তি সই হয়।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, গত দুই বছর ধরে শ্রমিকরা এই চুক্তির বিরোধিতা করে আসছে।
তিনি বলেন, ‘দুই বছর ধরে আমরা এই চুক্তির বিরুদ্ধে যুক্তি তুলে ধরেছি। এখন আর যুক্তির বিষয় নয়। আমাদের প্রধান দাবি শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা। আগামী রোববারের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরি না হলে সোমবার অনশন শুরু হবে।’
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবেন না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়। যারা সরকারকে ভুল বুঝিয়ে এই চুক্তি করতে এগিয়ে নিচ্ছে, তাদের প্রভাব থেকে সরকারকে মুক্ত করাই এই আন্দোলনের লক্ষ্য।’
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, বন্দরের বর্তমান জনবলেরই চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিদেশি অপারেটরের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সঙ্গে শুধু রাজস্বের বিষয়ই জড়িত নয়। দীর্ঘ মেয়াদে দেশীয় দক্ষতা ও বন্দর পরিচালনার সক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিও রয়েছে।’
বৃহস্পতিবার ঢাকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ মিলনায়তনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে এনসিটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে চুক্তি সই হয়।
সমাবেশে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি শাহ আলম, সিপিবির চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি অশোক সাহা এবং বন্দর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম উপস্থিত ছিলেন।


