এনজোর লাল কার্ডে ১০ জনের আর্জেন্টিনা, অতিরিক্ত সময়ে ফাইনাল

এনজোর লাল কার্ডে ১০ জনের আর্জেন্টিনা, অতিরিক্ত সময়ে ফাইনাল
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়েছে। স্পেনের প্রবল আধিপত্য ও আক্রমণের বিপরীতে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্সে নির্ধারিত সময়ে কোনো গোল হজম করেনি আর্জেন্টিনা। তবে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখায় ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে অতিরিক্ত সময়ে খেলতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে।

দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেনের আক্রমণের ধারা বজায় থাকে। তবে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। ম্যাচে এখন পর্যন্ত ১০টি সেভ দিয়েছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, যা বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড।

ম্যাচের ৬৭ মিনিটে লামিন ইয়ামালের ক্রসে ফেররান তোরেসের জোরাল হেড গ্লাভসে নেন তিনি। ওলমোর দূরপাল্লার শট এবং ৭৭ মিনিটে রদ্রির পাসে পেদ্রির বাম পায়ের শটও ঠেকিয়ে দেন এমিলিয়ানো। ম্যাচের শেষ দিকে ডান দিকের ক্রস থেকে আয়মেরিক লাপোর্তের হেড ডান দিকে লাফিয়ে ঠেকানোর পাশাপাশি পাউ কুবারসির দূরপাল্লার জোরাল শটও ঝাঁপিয়ে পড়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন এই গোলরক্ষক।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ম্যাচ অফিসিয়ালরা ৪ মিনিট ইনজুরি টাইম দেন। ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে লিওনেল মেসি ড্রিবলিং করে আক্রমণে ওঠার সময় ফাউলের শিকার হলে দূর থেকে ফ্রি কিক পায় আর্জেন্টিনা, তবে তা থেকে সুবিধা করতে পারেনি। ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তে ডি-বক্সের মুখে ফেররান তোরেসকে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ফাউল করলে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি কিক পেয়ে যায় স্পেন। লামিন ইয়ামালের নেওয়া চমৎকার ফ্রি কিকটি বাম দিকে ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে নিজের দশম সেভটি করেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। অন্যদিকে স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি দূর থেকে একটি জোরাল শট নিলেও তা বারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

ম্যাচের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে পাউ কুবারসিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখেন এনজো ফার্নান্দেজ। এর আগে ৮৩ মিনিটে ফাউলের আবেদন করে কার্ড না পেয়ে মেজাজ দেখানোর কারণে প্রথম হলুদ কার্ড পেয়েছিলেন তিনি। এই লাল কার্ডের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে লাল কার্ড দেখা ষষ্ঠ ফুটবলার হলেন এনজো। তার লাল কার্ডের পর আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা ভিএআর দেখার আবেদন করলেও রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ তাতে সায় দেননি।

আরও পড়ুন

এর আগে, প্রথমার্ধে কোনো শট নিতে না পারায় ১৯৬৬ সালের পর রেকর্ড সংরক্ষণের ইতিহাসে ফাইনালের প্রথমার্ধে গোলের জন্য কোনো শট নিতে না পারা দ্বিতীয় দল হওয়ার বিব্রতকর কীর্তি গড়ে আর্জেন্টিনা। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেই ফ্রান্স এই কীর্তি গড়েছিল। স্পেনের বলের দখল ছিল ৬৫ শতাংশ এবং আর্জেন্টিনার ছিল ৩৫ শতাংশ। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখা আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ চোটের কারণে মাঠ ছাড়েন। তার জায়গায় আসেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডি।

বিরতির পর খেলা নির্ধারিত ১৭ মিনিটের পরিবর্তে ২৭ মিনিট পর শুরু হয়। দ্বিতীয়ার্থের শুরুতে নিকোলাস গঞ্জালেজকে তুলে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে মাঠে নামান লিওনেল স্কালোনি। মাঠে নামার ৫ মিনিটের মধ্যে রদ্রিকে কনুই দিয়ে গুঁতো মারা এবং পরে আয়মেরিক লাপোর্তের সঙ্গে আগ্রাসন দেখানোর কারণে হলুদ কার্ড দেখেন পারেদেস। ৪৭ মিনিটে লিওনেল মেসির কর্নার থেকে প্রথম কর্নার পেলেও সুবিধা করতে পারেনি আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের ৫৬ মিনিটে দানি ওলমোর সেন্টার থেকে বল মার্ক কুকুরেয়ার কাছে যাওয়ার আগেই কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন গঞ্জালো মন্তিয়েল। এর পরের মিনিটেই মন্তিয়েলকে তুলে নাহুয়েল মোলিনাকে নামানো হয়। ম্যাচের ৫৮ মিনিটের মধ্যে ৩টি বদলি ব্যবহার করে ফেলে আর্জেন্টিনা। এরপর দ্বিতীয় হাইড্রেশন বিরতিতে রদ্রিগো দে পল ও ক্রিস্তিয়ান রোমেরোকে তুলে জুলিয়ানো সিমিওনে ও ফাকুন্দো মেদিনাকে মাঠে নামানো হয়।

স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ম্যাচের ৬২ মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবাল ও ফাবিয়ান রুইজকে তুলে ফেররান তোরেস ও পেদ্রি গনজালেসকে নামান। ৬০ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে পেদ্রো পোরোকে পারেদেস ফাউল করলে ফ্রি কিক পায় স্পেন, যা ইয়ামাল নিলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণ দেয়ালে বাধা পায়। এরপর ৭৫ মিনিটে দানি ওলমো ও অ্যালেক্স বায়েনাকে তুলে মাঠে নামানো হয় মিকেল মেরিনো ও নিকো উইলিয়ামসকে।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের এই ফাইনাল ম্যাচে ফিফার আনুষ্ঠানিক হিসাব অনুযায়ী গ্যালারিতে ৮০ হাজার ৬৬৩ জন দর্শক উপস্থিত ছিলেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad