কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), উপাত্ত বিশ্লেষণ ও দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরকে কীভাবে প্রতিষ্ঠানের জন্য পরিমাপযোগ্য ও টেকসই সুফলে রূপ দেওয়া যায়, তা নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলাদেশ বিজনেস অ্যানালাইসিস সামিট ২০২৬’।
‘অন্তর্দৃষ্টি থেকে বাস্তব ফলাফল: বুদ্ধিমান প্রতিষ্ঠান গঠনে বিজনেস অ্যানালাইসিসের ভূমিকা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যানালাইসিস (আইআইবিএ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এ সম্মেলনের আয়োজন করে। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান ক্লাবের প্যাটিও হলে দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দেশে-বিদেশের ব্যবসায়িক নেতৃত্ব, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ ও প্রযুক্তি খাতের পেশাজীবীদের উপস্থিতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা ভার্চ্যুয়ালি এতে যুক্ত হন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইআইবিএর পরিচালক জ্যারেড গোরাই এবং আইআইবিএ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত কবির।
সম্মেলনের মূল প্রবন্ধে বিল্ডকন কনসালট্যান্সিজ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং পার্টনার মাহতাব উদ্দিন আহমেদ তুলে ধরেন কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিজনেস অ্যানালাইসিসের সমন্বয়ে আধুনিক ও বুদ্ধিমান প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায়।
বিভিন্ন টেকনিক্যাল সেশনে প্রাতিষ্ঠানিক কৌশল, রূপান্তর ও প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিশেষজ্ঞদের একদল প্রতিনিধি। তারা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর অধ্যাপক শেখ মোরশেদ জাহান, পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এবং এবিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী, ওয়েব ফন্টেইনের প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অফিস লিড দীপেশ বণিক, সিসনোভা ইনফরমেশন সিস্টেমসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা ইসলাম, ইউএনডিপি বাংলাদেশের যোগাযোগপ্রধান মো. আবদুল কাইয়ুম এবং ৩৬৫ রিটেইল মার্কেটসের সিনিয়র স্ক্রাম মাস্টার মো. শাহ জালাল এবং আইআইবিএ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি কাজী সাইফুল হক।
সম্মেলনে ‘এক লক্ষ্য, অভিন্ন মূল্য: মানুষ, পণ্য ও প্রভাবের সংযোগ’ শীর্ষক এক নির্বাহী প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এটি সঞ্চালনা করেন চ্যাপ্টারের প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক সহসভাপতি আজুবা খন্দকার। প্যানেলে আলোচনা করেন ভাস্কর রঞ্জন সাহা, মাসুদ করিম চৌধুরী, মো. সাজ্জাদুল ইসলাম এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এ টি এম আজহারুল ইসলাম।
বক্তারা উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে বিজনেস অ্যানালাইসিস শুধু চাহিদা নির্ধারণের নথিপত্র তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এআই ও উপাত্তের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা, নৈতিকতার প্রয়োগ, উপাত্তের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মতো কৌশলগত সিদ্ধান্তে এটি মূল ভূমিকা পালন করছে।
আয়োজনের শেষ পর্বে দেশের বিজনেস অ্যানালাইসিস খাতে অবদান রাখায় পুরষ্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
আইআইবিএ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের ইভেন্ট ও স্পনসরশিপবিষয়ক সহ-সভাপতি কে এম রেফাউল এহসান জানান, শিল্পখাতের নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের এক মঞ্চে এনে এই সামিট স্থানীয় পেশাজীবীদের সঙ্গে আইআইবিএর বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের মেলবন্ধন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।


