সাইবার অ্যাটাকের শঙ্কায় বন্ধ বিভিন্ন দেশের সরকারি ওয়েবসাইট

সাইবার অ্যাটাকের শঙ্কায় বন্ধ বিভিন্ন দেশের সরকারি ওয়েবসাইট
এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি।
Advertisement
Advertisement

ইন্টারনেটের অধিকাংশ ওয়েবসাইট তৈরিতে ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইউরোপ, এশিয়াসহ বিভিন্ন মহাদেশের কয়েকটি দেশের সরকারি ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদ করা সম্ভব না হলে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ)।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এনএসএ জানায়, পিএইচপি ব্যবহারকারী সব প্রতিষ্ঠানকে দুটি গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি সংশোধনের জন্য প্রকাশিত হালনাগাদ দ্রুত ইনস্টল করার প্রস্তুতি নিতে হবে।

জার্মানির ডিজিটাল রূপান্তর ও সরকারি আধুনিকায়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা কয়েকটি ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও স্থানীয় প্রশাসনিক দপ্তরগুলোর সরকারি ওয়েবসাইট নিষ্ক্রিয় করেছে।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড ও চেক প্রজাতন্ত্রের কর্তৃপক্ষ পিএইচপির নিরাপত্তাত্রুটি সংশোধনে নিরাপত্তা প্যাচ প্রয়োগের জন্য ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পিএইচপির নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলের সহায়তায় সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এ দুটি ত্রুটি শনাক্ত করেন। এগুলোকে একত্রে ‘পিএইচপি২শেল’ নামে অভিহিত করা হয়েছে।

নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ ওপেনএআইয়ের সঙ্গে কাজ করে গত ১১ আগস্ট প্রথম ত্রুটিটি শনাক্ত করে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের মালিকানাধীন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান উইজ গত ২৪ আগস্ট দ্বিতীয় ত্রুটিটি শনাক্ত করার কথা জানায়।

আরও পড়ুন

উইজের ভাষ্য, পিএইচপিতে শনাক্ত হওয়া ত্রুটিগুলোর মধ্যে এগুলো অন্যতম গুরুতর। এমনকি সফটওয়্যারের ইতিহাসে শনাক্ত হওয়া সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটিগুলোর মধ্যেও এগুলো স্থান পেতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ত্রুটিগুলো কয়েক দশক ধরেই বিদ্যমান ছিল। তবে সেগুলো ব্যবহার করে সাইবার হামলা চালানো সম্ভব, তা প্রমাণ করতে একাধিক ধাপ অতিক্রম করতে হয়েছে। এ প্রক্রিয়া গবেষকদের বাস্তব সক্ষমতার প্রায় সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গিয়েছিল।

গবেষকদের মতে, মানুষের পক্ষে এককভাবে যত ধরনের সাইবার হামলার কৌশল পরীক্ষা করা সম্ভব, এআইয়ের সাহায্যে তার চেয়ে অনেক বেশি কৌশল পরীক্ষা করা যায়। ফলে সফটওয়্যারের দুর্বলতা শনাক্ত করার কাজ দ্রুত হচ্ছে।

স্বেচ্ছাসেবকেরা পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষা রক্ষণাবেক্ষণ করেন। এর অলাভজনক সংস্থা পিএইচপি ফাউন্ডেশন বুধবার জানিয়েছে, তাদের অভিজ্ঞতায় শনাক্ত হওয়া সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটিগুলোর মধ্যে এগুলো অন্যতম। ওয়েবসাইট পরিচালনাকারীদের অবিলম্বে নিজেদের কোড হালনাগাদ করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

ত্রুটি দুটির মাধ্যমে যথাযথ অনুমতি ছাড়াই কম্পিউটারের মেমোরির নির্দিষ্ট অংশে প্রবেশ করা এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্ষতিকর কোড চালানো সম্ভব। ফলে পুরোনো পিএইচপি কোডে পরিচালিত কোনো সার্ভারে ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূর থেকেই নির্দেশনা চালাতে পারেন হামলাকারীরা। এ জন্য পাসওয়ার্ড বা বৈধ ব্যবহারকারী একাউন্ট (ইউজার একাউন্ট) প্রয়োজন হয় না।

পিএইচপি ফাউন্ডেশন সতর্ক করে বলেছে, এআইয়ের উন্নতির ফলে এ ধরনের নিরাপত্তাত্রুটি খুঁজে বের করা আরও সহজ হবে। অনলাইন সেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন এড়াতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এক বিবৃতিতে ফাউন্ডেশনটি জানায়, এখন নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত করার সরঞ্জামগুলো আগের চেয়ে অনেক দ্রুত কাজ করছে, তা প্রতিরক্ষামূলক কাজেই হোক কিংবা হামলার উদ্দেশ্যে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad