মিয়ানমার থেকে নাফ নদী পেরিয়ে কক্সবাজারের উখিয়ায় ইয়াবা পাচারে কাঠের তৈরি বিশেষ ডুবন্ত ক্যারিয়ার বা ‘লোকাল সাবমেরিন’ ব্যবহারের কৌশলের সন্ধান পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৈদ্যুতিক মোটর, স্টিলের তার ও কপিকলের সাহায্যে পানির নিচ দিয়ে পরিচালিত এই ক্যারিয়ারে একসঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ ইয়াবা পরিবহন সম্ভব বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
এ ঘটনায় পৃথক অভিযানে দুই লাখ ২০ হাজার ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি ও পাচারে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে তিনজনকে।
সোমবার রাতে উখিয়ার পালংখালীর ফাইস্যাখালী সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডুবন্ত ক্যারিয়ারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে বিজিবি। রাত তিনটার দিকে বালুখালী সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই লাখ ইয়াবাসহ মো. রকি আহমেদ (২৬) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। একই সময়ে পালংখালী সীমান্ত এলাকায় মালিকবিহীন আরও ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে তিনটায় উখিয়া ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, চোরাকারবারিরা বৈদ্যুতিক মোটর, স্টিলের তার ও কপিকলের সাহায্যে ডুবন্ত ক্যারিয়ারটি নাফ নদী পেরিয়ে পালংখালীর ফাইস্যাখালী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের ভেতরে নিয়ে আসত। খালের বাঁক অতিক্রম করতেও এ কৌশল ব্যবহার করা হতো।
বিজিবির অধিনায়ক আরও বলেন, ক্যারিয়ারটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে পানির নিচ দিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া যায়। এতে একসঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ ইয়াবা পরিবহন সম্ভব। এ কৌশলে সীমান্ত পেরিয়ে মাদক আনার চেষ্টা করছিল চোরাকারবারিরা।
অন্যদিকে সোমবার রাত তিনটার দিকে বালুখালী সীমান্ত ফাঁড়ির নিয়মিত বিশেষ টহল দল সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পোস্টসংলগ্ন সোহেলের ঘের এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টাকালে রকি আহমেদকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে দুই লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে পালংখালী সীমান্ত ফাঁড়ির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে মালিকবিহীন আরও ২০ হাজার ইয়াবা জব্দ করা হয়।
আটক অন্য দুজন হলেন উখিয়ার বালুখালী এলাকার নলবনিয়ার বাসিন্দা বেলাল উদ্দিন (৩৫) এবং মধ্যম ফারির বিলের বাসিন্দা খোরশেদ আলম (২৬)।
উদ্ধার করা ইয়াবা, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।


