ভরা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মিলছে না। লাখো টাকা খরচ করে খালি হাতে ফিরে লোকসানের মুখে পড়ছেন জেলেরা, বাধ্য হয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ইলিশের ভরা মৌসুম হলেও বরগুনাসহ উপকূলীয় এলাকার জেলেরা সাগরে গিয়ে বারবার লোকসানের মুখে পড়ছেন।
বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানির এফ বি মায়ের দোয়া ট্রলারের মালিক জাহিদ মাঝি জানান, চলতি মৌসুমে ১৮ জেলেকে নিয়ে আটবার সাগরে যেতে তার ৩৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বিপরীতে ইলিশ বিক্রি করেছেন মাত্র ৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকার। প্রতিবার লোকসান হওয়ায় তিনি মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন।
ট্রলারটির জেলে হারুন অর রশিদ বলেন, তিন মাস ধরে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের সম্ভাব্য সব এলাকায় জাল ফেললেও ইলিশ পাওয়া যায়নি। ফলে তারা মজুরির টাকাও চাইতে পারছেন না।
একই চিত্র বরগুনা সদরের শুক্কুর মিয়ার মালিকানাধীন এফ বি আয়ান ট্রলারের। ট্রলারটির মাঝি সগির সিকদার জানান, ৪ লাখ টাকা খরচ করে সাগরে ১৩ দিন জাল ফেলে মাত্র দেড় লাখ টাকার ইলিশ পেয়েছেন। ফলে আড়াই লাখ টাকা লোকসান নিয়ে তাদের ঘাটে ফিরতে হয়েছে।
জেলেরা জানিয়েছেন, সারা বছর অপেক্ষা করার পর এই মৌসুমে তারা আগের লোকসান পুষিয়ে নেন। কিন্তু এবার ভরা মৌসুমেও ভরাডুবি হয়েছে।
এফ বি আল্লাহর দান ট্রলারের মালিক আবুল হোসেন ফরাজী বলেন, ‘সাগরে ইলিশ নেই বললেই চলে। ধারদেনা করে ট্রলার পাঠিয়ে বারবার লোকসান হচ্ছে।’
তার ভাষ্য, দুই-একটি ট্রলার লাখো টাকার মাছ পেলে তা সামনে আসে, কিন্তু লোকসানে থাকা বাকি হাজারো ট্রলারের কথা কেউ বলে না।
বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, সাগরে অবৈধ জাল, ট্রলিং জাহাজের অত্যাচার, জলদস্যু, প্রতিকূল আবহাওয়া, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও ইলিশ সংকটে চলতি মৌসুমে অন্তত ৩০০ ট্রলার মালিক পথে বসেছেন। বিষয়গুলো লিখিতভাবে মৎস্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে জানিয়েও কোনো সমাধান পাননি তারা।
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, অবৈধ জালের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অসাধু জেলেদের বিরুদ্ধে কম্বাইন অপারেশন চালানের পাশাপাশি জরিমানা ও মামলা করা হচ্ছে। মৌসুম শেষ হলেও সামনে ইলিশ ধরা পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


