ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানে সৌদি আরবের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার করেছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে তাকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেন বিন সালমান।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ-এর বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনালাপে যুবরাজ বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করতে সহিংসতা পরিহার করে সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের যেকোনো প্রচেষ্টাকে সৌদি আরব সমর্থন করে।’
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পেজেশকিয়ান বিন সালমানকে বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে যুদ্ধ প্রতিরোধে সহায়ক যেকোনো প্রক্রিয়াকে (সংলাপ কিংবা মধ্যপন্থা) তেহরান স্বাগত জানায়।
সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে তাদের আকাশসীমা কিংবা আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহার করতে দেবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ নামের বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রসিদেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার এক বার্তায় জানান, আরও একটি সশস্ত্র নৌবহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইরান কোনো ‘ভুল পদক্ষেপ’ না নিলে এই যুদ্ধজাহাজগুলো ব্যবহার করতে হবে না বলেও আশা করেন ট্রাম্প।
সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে কয়েক হাজার ইরানি বিপ্লবীকে হত্যার পর দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়তুল্লাহ আলী খামেনি ও তার বাহিনীর প্রতি সতর্কবার্তা হিসেবে এসব যুদ্ধজাহাজের বহর পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তা মূলত ইরানকে ‘পারমাণবিক কর্মসূচি’ ফের চালু না করার জন্য দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে পূর্ণশক্তি অর্জনেও এই নৌবহরগুলো সহায়তা করবে।


