ইউনেস্কোর হেরিটেজে মাগুরার নৌকাবাইচ অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ

ইউনেস্কোর হেরিটেজে মাগুরার নৌকাবাইচ অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ
নৌকাবাইচ। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরতে মাগুরার মহম্মদপুরের নৌকাবাইচ ও ঐতিহ্যবাহী কাত্যায়নী পূজাকে ইউনেস্কোর হেরিটেজের অংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইউনেস্কোর কাছে প্রস্তাব পাঠাবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

ছবি: টাইমস

রোববার বিকালে মাগুরার মহম্মদপুরে মধুমতি নদীতে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী নৌকাবাইচের ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, মাগুরার নৌকাবাইচের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী কাত্যায়নী পূজাকেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে ইউনেস্কোর হেরিটেজ তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সন্ধ্যায় বিজয়ী দলগুলির মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি নিতাই রায় চৌধুরী।

গ্রামবাংলার লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম আকর্ষণ নৌকাবাইচ। নদীর বুকে সারি সারি সুসজ্জিত নৌকা, মাঝিমাল্লাদের বৈঠার ছন্দ আর ঢাকঢোলের বাদ্যে প্রতিবছরই এ আয়োজন ঘিরে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। এবারও মধুমতি নদীর দুই তীরে নৌকাবাইচ দেখতে সমবেত হন হাজারো মানুষ।

ছবি: টাইমস

এ নৌকা বাইচ ঘিরে নদীর কাশিপুর ঘাট থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকাগুলো যাত্রা শুরু করে। বৈঠার তালে তালে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলা নৌকাগুলো মধুমতি ব্রীজের নিচ দিয়ে থানার গেট পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। রঙ্গিন কাপড় পড়া বাইচালদের বৈঠার তালে তালে সবাই আনন্দ উপভোগ করেন। নদীর দুই পাড়ে হাজার হাজার দর্শনার্থী। মধুমতি সেতুর ওপরও ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

মাগুরার কুচিয়ামোড়া থেকে আসা আব্দুস সালাম, মিজানুর রহমানসহ অনেকেই বলেন, নৌকাবাইচ উপলক্ষে নদীর দুই পাড়ে যে বসেছে গ্রামীণ মেলা বসেছে। সেটিও একটি অন্যতম আকর্ষণ। সেখানে খাবার, মিষ্টি, খেলনা, প্রসাধনী ও বিভিন্ন দেশীয় পণ্যের দোকান বসে। শিশু-কিশোরদের আকর্ষণ বাড়ায় নাগরদোলাসহ নানা বিনোদনমূলক আয়োজন। দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবটি পরিণত হয় স্থানীয়দের মিলনমেলায়। তারা বলেন, সময়ের পরিবর্তনে গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসলেও মধুমতি নদীর নৌকাবাইচ এখনো ধরে রেখেছে বাঙালির লোকজ সংস্কৃতির আলাদা পরিচয়। আয়োজক ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে এ ঐতিহ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad