ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তকারী শিক্ষার্থীরা এবার আলাদা বাহিনী (ফোর্স) হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন। এই বাহিনীর কী নাম হতে পারে, সে পরামর্শও দিয়েছেন দারা।
রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন ট্রাফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট গ্রুপের শিক্ষার্থীরা।
তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, দায়িত্ব পালনের জন্য ওয়াকিটকি, পুলিশের অধীনে ‘ট্রান্সপোর্ট সাপোর্ট ফোর্স’ গঠন, নতুন এই বাহিনীর জন্য আলাদা গভর্নিং বডি প্রতিষ্ঠা, নির্দিষ্ট পোশাক, পরিচয়পত্র ইত্যাদি।
এক মাসের মধ্যে এসব দাবি পূরণের জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের দৃষ্টিও আকর্ষণ করেন তারা।
গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন স্থানে থানা ও পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটে। প্রাণ বাঁচাতে আত্মগোপনে চলে যান অনেক পুলিশ সদস্য। এ অবস্থায় ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সেসময় স্বেচ্ছায় সড়কের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন স্থানীয় শিক্ষার্থীরা।
পরে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে পুলিশ বাহিনী সক্রিয় হলে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে যুক্ত করা হয় শিক্ষার্থীদের। ঢাকায় আটটি ডিভিশনে ভাগ হয়ে ট্রাফিকের সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করছেন এক হাজার শিক্ষার্থী। যারা ট্রাফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট গ্রুপ হিসেবে পরিচিত।
এই গ্রুপের শিক্ষার্থীরাই সংবাদ সম্মেলন করে ‘ট্রান্সপোর্ট সাপোর্ট ফোর্স’ গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, পুলিশের পাশাপাশি একটি পৃথক গভর্নিং বডির মাধ্যমে এই ফোর্স পরিচালনার জন্য তারা এরই মধ্যে রূপরেখা প্রণয়ন করেছেন। এখন থেকে ‘ট্রান্সপোর্ট সাপোর্ট ফোর্স’ নামে পুলিশের অধীনে একটি আলাদা বাহিনী হিসেবে কাজ করতে চান তারা।
পাশাপাশি সড়কে দায়িত্ব পালনের সময় আত্মরক্ষার জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সামগ্রী, যোগাযোগের জন্য ওয়াকিটকি, নির্দিষ্ট পোশাক, পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ এবং পরিচয়পত্রও চেয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা শুরু থেকেই অর্থ আত্মসাৎ, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতিতে লিপ্ত। অভিযুক্ত এসব সদস্যদের বহিষ্কার ও বিচারও সংবাদ সম্মেলন থেকে দাবি করা হয়।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মনির হোসেন, নাসির আলম নাহিদ, কাজী শাহজাহান, রাকিবুল ইসলাম রাকিব, মো. ইসমাইলসহ অন্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের দুর্ঘটনা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ড. আরমানা সাবিহা হক।


