জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ছাত্র-জনতাকে হত্যার ঘটনায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন গভীর দুঃখ প্রকাশ এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত লজ্জিত, অনুতপ্ত এবং ক্ষমাপ্রার্থী যে আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের মাধ্যমে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে।’
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে জবানবন্দি দিতে গিয়ে সাবেক আইজিপি এসব কথা বলেন।
জবানবন্দি দিতে গিয়ে মামুন জানান, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনা এসেছিল শেখ হাসিনার কাছ থেকে। তিনি আরো জানান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিব এবং ডিবির হারুন মারণাস্ত্র ব্যবহারে অত্যধিক আগ্রহী ছিলেন।
এদিন সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে মামুন সাক্ষ্য প্রদান শুরু করেন। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পূর্ব রাতে শেখ হাসিনাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী, যাতে ৫০ শতাংশ ভোট ব্যালট বাক্সে ভরে রাখা হয়।
মামুন জানান, আন্দোলন দমনে ব্যবহৃত মারণাস্ত্র, হেলিকপ্টার থেকে গুলি ও ব্লক রেইডের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে নেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরো জানান, র্যাব-১ এ টিআইএফ নামে গোপন বন্দিশালা ছিল এবং অন্যান্য র্যাব ইউনিটেও এমন বন্দিশালা ছিল, যেখানে রাজনৈতিক ভিন্নমত ও সরকারের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের ধরে আনা হতো।
মামুন জবানবন্দিতে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এসব নির্দেশনা আসতো, মাঝে মাঝে এসব নির্দেশনা দিতেন তারেক সিদ্দিকী। তিনি এসময় র্যাবের এডিসি অপারেশন ও গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালকের নেতৃত্বে আয়নাঘরে আটক এবং ক্রসফায়ারে হত্যার মতো কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন।
এ বছরের ২৪ মার্চ মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তিনি জানান, স্বেচ্ছায় রাজসাক্ষী হয়ে সত্য উন্মোচন করতে চান।
এদিকে, জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যসহ ৩৫ জন ইতোমধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, এই মাসেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হবে।


