৬ উইকেটের জয়ে সিরিজে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ
সিরিজে টিকে থাকতে জয়ের বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের সামনে। সোমবার মিরপুরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ম্যাচ জেতার কাজ অর্ধেকটা করে রেখেছিলেন নাহিদ রানা, গতির ঝড়ে দারুণ এক বোলিং ফিগারে। ইনিংসে তার দ্বিতীয়বার নেয়া পাঁচ উইকেটে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। জবাবে তানজিদ-শান্তর জোড়া ফিফটিতে ৩৫.৩ ওভারেই সেটা টপকে যায় বাংলাদেশ। ৮৭ বল হাতে রেখে পাওয়া এই জয়ে সিরিজে ১-১ সমতায় ফিরলেন মিরাজরা।
এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২১ রানে মধ্যে দুই উইকেট হারালেও তানজিদ ও শান্তর ১২০ রানের জুটিতে সব চাপ সামলে উঠে বাংলাদেশ। ১০ চার ও ৪ ছক্কায় ৫৮ বলে ৭৬ রান করে ফেরেন তানজিদ। ৭১ বলে ফিফটি ছুঁয়ে পায়ে টান লাগায় মাঠ ছাড়েন শান্ত। শেষটা বাংলাদেশ পাড়ি দিয়েছে তাওহিদ হৃদয় আর মিরাজের ব্যাটে চড়ে।
ফিফটির গেরো কাটল শান্তর
১৩ ইনিংস আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই সর্বশেষ ফিফটি করেছিলেন শান্ত। এবার সেই কিউইদের বিপক্ষেই কাটল ফিফটির খরা। মিরপুরে ৭১ বলে ১১তম ফিফটি ছুঁয়েই অবশ্য মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন অতিরিক্ত গরমের কারণে পায়ে টান লাগাতে। সাথেসাথেই ছুটে এসেছেন দলের ফিজিও। যদিও শুশ্রুষার পরে আর ব্যাট করতে পারেননি তিনি। মাঠ ছেড়েছেন ৫০ রানে অপরাজিত থেকে।
এর আগে তানজিদের সাথে ১২০ রানের জুটিতে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়েছেন শান্ত। শততম ওয়ানডে খেলতে নামা লিটন দাস ফিরেছেন ৭ রান করে।
২৮.১ ওভারে ৪ উইকেটে ১৬৭ রান বাংলাদেশের। জয় থেকে আছে আর ৩২ রান দূরে।
ছক্কা মারতে গিয়ে ফিরলেন তানজিদ
জেডন লেনক্সের আগের বলটা ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে এসে ইনিংসে নিজের চতুর্থ ছক্কাটা মেরেছিলেন তানজিদ। পরের বলেও একইভাবে বেরিয়ে গিয়ে শট খেলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তবে টাইমিং ঠিকঠাক না হওয়াতে টপ এজের পর শর্ট কভারে হেনরি নিকোলসের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ৫৮ বলে ১০ চার ও চার ছক্কায় ৭৬ রান করেছেন এই ওপেনার।
২৩ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ১৪২ রান করেছে বাংলাদেশ। ২৭ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ৫৭ রান।
তানজিদ-শান্তর শতরানের জুটি
শুরুর ধস সামলে তানজিদ-শান্তর শতরানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজে টিকে থাকার ম্যাচে ১৯৯ রান তাড়ায় তৃতীয় উইকেটে দুজন গড়েছেন ১১১ রানের জুটি। তানজিদ ব্যাট করছেন ৬৮ ও শান্ত অপরাজিত ৩৯ রানে। ২১ ওভার শেষে দলের সংগ্রহ ১৩২/২, জয় থেকে আর ৬৭ রান দূরে বাংলাদেশ।
তানজিদের ষষ্ঠ ফিফটি
ডিন ফক্সক্রফটকে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মেরে ৩২ বলে নিজের ষষ্ঠ ফিফটির দেখা পেলেন তানজিদ। ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৪ বলে ৫৯ রান করেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। তার সঙ্গী শান্ত অপরাজিত আছেন ৩৭ বলে ২৭ রানে। দুজনের জুটি ৮৪ রানের।
১৭ ওভার শেষে সংগ্রহ ১০৫/২। জয়ের জন্য ৩৩ ওভারে প্রয়োজন ৯৪ রানের।
তানজিদ-শান্তর জুটিতে পঞ্চাশ পেরিয়ে বাংলাদেশ।
২১ রানের মধ্যে সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকারকে হারিয়ে ব্যাকফুটেই ছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে তানজিদ-শান্তর জুটিতে দলীয় ৫০ পেরিয়েছে স্বাগতিকরা। ২টি করে ছক্কা ও চারে ১৯ বলে ২৫ রানে অপরাজিত আছেন তানজিদ, ১১ বলে ১৩ রান করেছেন শান্ত। দুজনের ৩৫ রানের জুটিতে ৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫৭/২।
প্রত্যাবর্তনে ফিকে সৌম্য
এক সিরিজ আগের সর্বোচ্চ স্কোরার হয়েও পাকিস্তান সিরিজে সাইডবেঞ্চে বসে ছিলেন সৌম্য সরকার। সোমবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচের একাদশে সুযোগ পেয়েছেন আফিফ হোসেনের জায়গায়। তবে তিনে নেমে ইনিংস বড়ফ করতে পারেননি এই বাঁহাতি ব্যাটার। উইল ও’রোর্কের বাউন্সারে নিজের সিগনেচার শট ‘পেরিস্কোপ’ খেলতে গিয়ে স্লিপে ডিন ফক্সক্রফটের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। যদিও একই ওভারে দ্বিতীয় বলে দারুণ এক ইনসাইড আউটে এক্সট্রা কভার দিয়েও ছক্কা মারেন ১১ বলে ৮ রান করা এই ওপেনার।
৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৪/২ , উইকেটে আছেন তানজিদ তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত।
রান তাড়ার শুরুতেই ফিরলেন সাইফ
১৯৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দুই চারে দারুণ শুরু করেছিলেন সাইফ হাসান। নাথান স্মিথকে প্রথম বলে চার মেরেছেন স্লিপের মাঝ দিয়ে। এক বল ডট দিয়ে তৃতীয় বলে খেলেছেন দারুণ এক ব্যাকফুট স্কয়ার ড্রাউভ। তবে পরের বলেই ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে লাইন মিস করে বোল্ড হয়েছেন তিনি। ৫ বলে ৮ রান করেছেন তিনি। ২ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১২/১।
তপ্ত দুপুরে রানার ফাইফার, নিউজিল্যান্ড ১৯৮
মিরপুরে রোদ ঝলমলে দিনের শুরুতে তাপমাত্রা ৩৪-৩৬ ডিগ্রী সেলিসিয়াসের আশেপাশে উঠানামা করলেও আসলে তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছিল ৪৩ ডিগ্রীর আশেপাশে। তবে এই গরমেও কাবু হননি নাহিদ রানা। তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে গতির ঝড়ে নাজেহাল করে ছেড়েছেন কিউই ব্যাটারদের। এই তপ্ত রোদেও তিন স্পেলে করেছেন ১০ ওভার। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। তার গতির ঝড়ে ১৯৮ রানে অল আউট হয়েছে নিউজিল্যান্ড।
প্রথম ম্যাচ হারায় সোমবারের দ্বিতীয় ওয়ানডে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ১০ ওভারে ১ মেইডেন-সহ মাত্র রানা ৩২ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট, ডট আদায় করেছেন ৪৩টি।
ইনিংসের অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে এসেই ১৪৪ কিমি/ঘণ্টার এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ করেন আগের ম্যাচে ফিফটি করা হেনরি নিকোলসকে। পরের ওভারে ফিরে তিনে নামা উইল ইয়াংকে স্বাগত জানিয়েছেন দুর্দান্ত গতির এক বাউন্সারে। স্পিড মিটারে বলের গতি দেখাচ্ছিল ১৪৬.৮! তুমুল গতির আচমকা লাফিয়ে ওঠা বলে ঠিকঠাক ব্যাটে বলে করতে পারেননি ইয়াং, শেষ মুহূর্তে ব্যাট সরিয়ে নিতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
মুহাম্মদ আব্বাসকেও ফিরিয়েছেন এই বাউন্সার রেসিপিতেই। রানাকে পুল করতে গিয়ে ঠিকঠাক টাইমিং হয়নি এই ডানহাতি ব্যাটারের। ফাইন লেগে বল উড়ে গেলে দৌড়ে গিয়ে সামনে ঝাঁপিয়ে দারুণ এক ক্যাচে তাকে ফেরান ১৪তম বাংলাদেশি হিসেবে শততম ওয়ানডে খেলতে নামা উইকেটকিপার লিটন দাস। চতুর্থ শিকার ডিন ফক্সক্রফট, তাওহিদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তিনি। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন জেইডেন লেনক্সকে বোল্ড করে।
নাহিদের দিনে ২ উইকেট নেন শরীফুল ইসলাম। একটি করে উইকেট পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ, রিশাদ হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। কিউই ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৩ রানের ইনিংস খেলেছেন বাঁহাতি ব্যাটার নিক ক্যালি। শরীফুলের বলে হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ওপেনার।


