সোহরাওয়ার্দী উদ্যান: ক্ষয়ে যাচ্ছে জাতীয় স্মৃতি

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান: ক্ষয়ে যাচ্ছে জাতীয় স্মৃতি
ছবি: আবির আহমেদ সুপ্ত/টাইমস
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রতীকী জনপরিসর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। এখানে খোলা মাঠ আর গাছপালার ভেতরও ছড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস।

জাতীয় গুরুত্বের বহু মুহূর্তের জন্ম হয়েছে এখানেই, আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই জায়গায় এসে দেশের অতীতের সঙ্গে নিজেদের সংযোগ খুঁজে পেয়েছে। সে হিসেবে এই উদ্যান হওয়ার কথা সবুজ, উন্মুক্ত এবং স্মৃতি ও জীবনের স্পন্দনে ভরপুর।

কিন্তু এখন ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে সেই চিত্র। উদ্যানে হাঁটলে যে বাস্তবতা চোখে পড়ে, তা এর গুরুত্বের সঙ্গে ক্রমশ বেমানান হয়ে উঠছে।

ছবি: আবির আহমেদ সুপ্ত/টাইমস

মাঠের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী ঘরবাড়ি, যেখানে কিছু মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে বসবাস করছেন। তাদের এমন উপস্থিতি বৃহত্তর সামাজিক সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে ত্বরান্বিত করছে উদ্যানের পরিবেশের অবনতির দিকটি।

ছবি: আবির আহমেদ সুপ্ত/টাইমস

উদ্যানের নানা কোণে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আবর্জনা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ সেই চাপ সামাল দিতে পারছে না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উদ্যানে প্লাস্টিক পোড়ানোর প্রবণতা বাড়ছে।

আরও পড়ুন

মশা তাড়াতে অনেক সময় প্লাস্টিক বর্জ্যে আগুন দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে ঘন, বিষাক্ত ধোঁয়া বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। তাৎক্ষণিক চোখে পড়ছে এর প্রভাব।

ছবি: আবির আহমেদ সুপ্ত/টাইমস

উদ্যানের পথঘাট ও আশপাশের এলাকায় প্রায় মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় পাখি, বিশেষ করে কাক। যে জায়গাটি পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল হওয়ার কথা, সেটিই প্রতিকূল পরিবেশে পরিণত হয়েছে নীরবে।

এর প্রভাব শুধু উদ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। এই ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ব্যস্ত সড়কগুলোতেও। পথচারী, শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের ধোঁয়ার মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এটি শুধু অস্বস্তির নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান শুধু একটি পার্ক নয়, এটি দেশের সম্মিলিত ঐতিহ্য। উদ্যানের এই অবক্ষয় শুধু ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা নয়, এটি আমাদের সম্মিলিত অবহেলার প্রতিফলনও।

এই স্থানটিকে যদি ইতিহাসের নিদর্শন ও জীবন্ত সবুজ এলাকা হিসেবে টিকিয়ে রাখতে হয়, তবে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে—তা না হলে একদিন এই স্মৃতি শুধু ধোঁয়া আর নীরবতায় মিলিয়ে যাবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর