দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশিত স্কেল ভেটিং অবশেষে বাস্তবায়িত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় বিদ্যমান গ্রেড অক্ষুণ্ণ রেখে সংশোধিত স্কেল ভেটিং আদেশ জারি হওয়ায় বিএডিসির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ, স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস।
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বিএডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বৃহস্পতিবার তাদের নির্ধারিত আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করেন।
বিএডিসিতে দীর্ঘদিন ধরে স্কেল ভেটিং বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চলছিল। অবশেষে স্কেল ভেটিংয়ের আদেশ জারি হলেও এতে বিভিন্ন পদের গ্রেড অবনমন এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে কঠিন শর্ত আরোপ হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
এর প্রতিবাদে প্রধান কার্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন মাঠপর্যায়ের দপ্তরে কর্মবিরতি, মানববন্ধন ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালিত হয়।
একপর্যায়ে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হলে তিনি বিএডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অর্জিত গ্রেড ও পদমর্যাদা বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান গ্রেড অক্ষুণ্ণ রেখে স্কেল ভেটিং কার্যকর করার নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর পূর্বের আদেশ পুনঃপর্যালোচনা করে অসামঞ্জস্যগুলো সংশোধন করা হয় এবং বিদ্যমান গ্রেড অক্ষুণ্ণ রেখে নতুন স্কেল ভেটিং আদেশ জারি করা হয়।
এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএডিসির প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়।
দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি সম্মানজনকভাবে পূরণ হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কর্মকর্তারা জানান, এটি শুধু একটি প্রশাসনিক আদেশ নয়; বরং তাদের দীর্ঘদিনের কর্ম, পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্য প্রত্যাশার স্বীকৃতি।
তারা মনে করেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবি অনুধাবন করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রতি যে আন্তরিকতা ও সহমর্মিতা দেখিয়েছেন, তা বিএডিসির সর্বস্তরের জনবলের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তাই বিএডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে গ্রেড অবনমন ছাড়াই বহুল প্রত্যাশিত স্কেল ভেটিং বাস্তবায়ন হয়ে উঠেছে ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার’।
এই সিদ্ধান্তে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা কেটে গিয়ে নতুন উদ্যম ও কর্মস্পৃহা সৃষ্টি হয়েছে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উপহারের মর্যাদা ধরে রেখে দেশের কৃষক ও কৃষির উন্নয়নে বিএডিসির বীজ, সার ও সেচ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে তারা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাবেন।
বিএডিসিতে বর্তমানে পেনশন প্রথা চালু নেই। অথচ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সার, বীজ ও সেচের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি খাল খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষিজমিতে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বিএডিসি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
এ অবস্থায় বিএডিসির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপে তাদের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবি ও প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে বিএডিসিতে দ্রুত পেনশন প্রথা চালু করা হবে।
এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে এবং তারা আরও উৎসাহ, উদ্দীপনা ও কর্মস্পৃহা নিয়ে দেশের কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের কল্যাণে কাজ করে যেতে পারবেন।


