বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করার জন্য গ্রহণ করা বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্প্রতি জেনিভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার বিনিয়োগ, উদ্যোগ ও উন্নয়ন কমিশনের (আঙ্কটাড) ষোড়শ অধিবেশনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনীতি, যোগান শৃঙ্খল এবং মূলধন প্রবাহের প্রেক্ষাপটে উন্নয়নশীল দেশগুলো কীভাবে তাদের কৌশল নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করছে, তা নিয়ে এই অধিবেশনে আলোচনা হয়। সেখানে তিউনিসিয়া এবং বাংলাদেশকে দুটি সফল উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে এই আয়োজনে অংশ নিয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি দেশের বাস্তবায়নকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তাজনিত অনুমতি দ্রুত প্রদান, বৈদেশিক অর্থায়ন সহজীকরণ, মুনাফা ও মূলধন ফেরত পাঠানোর নিয়ম স্পষ্টকরণ, ডিজিটাল সেবা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করার মতো কাজগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হচ্ছে।
আগের বছরের অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কাজের এই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কমিশনের এই মূল্যায়নের ভিত্তি ছিল জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন, যেখানে পূর্বে দেওয়া বিভিন্ন সুপারিশ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সাফল্য খতিয়ে দেখা হয়।
এতে আইনগত প্রক্রিয়া, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ব বিনিয়োগ সংক্রান্ত বার্ষিক প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে, বিশ্বজুড়ে সবুজ প্রকল্পে নতুন মূলধন পাওয়া হাতে গোনা কয়েকটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী গত বছরে দেশে নিট প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রায় ৩৯ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।
বিদেশি মুদ্রা সংক্রান্ত নিয়মকানুন শিথিল করার মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার জন্যও বাংলাদেশকে প্রশংসিত করা হয়েছে।
বিনিয়োগ সংক্রান্ত সেবাগুলো আরও সুসংহত করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষকে একত্র করে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে একটি একক প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়েছে।
এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের সেবা প্রদান সহজ হয়েছে এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।


