স্বামীর নিষেধ উপেক্ষা করে ভোট দেওয়ার অভিযোগে তালাক পাওয়া ফেনীর গৃহবধূ জহুরার সংসার এখনো জোড়া লাগেনি। সামাজিক চাপে পড়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে জহুরা ও তার তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জহুরা ও তার পরিবার আলাদাভাবে বসবাস করছেন। তিন সন্তান নিয়ে তিনি বর্তমানে শাশুড়ির সঙ্গে থাকছেন। অন্যদিকে, এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে তার স্বামী ইসমাইল হোসেন কাওসারও বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও অবস্থান করছেন।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, সংসার পুনর্প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্থানীয় আলেম প্রতিনিধি ও সমাজের অনেক ব্যক্তি কাজ করছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় জহুরার সঙ্গে দেখা করতে যান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব। এ সময় তিনি জহুরা ও তার শাশুড়ির সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপি পরিবারের ঘোষণা অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে জহুরাকে নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া, তার পরিবারের খরচ বহনে প্রতি মাসে অর্থ সহায়তা এবং তিন সন্তানের পড়ালেখার খরচ নিয়মিত দেওয়া হবে।’
তিনি আরও জানান, জহুরার পরিবারের বিষয়টি বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই ফলোআপে রেখেছেন। আগামী সপ্তাহে বিএনপি পরিবারের নেতারা ফেনী সফরে এসে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করবেন।
এ সময় তিন সন্তান ও সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংসার পুনর্প্রতিষ্ঠায় সবার সহযোগিতা চান গৃহবধূ জহুরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল, ধর্মপুর ইউনিয়ন সভাপতি আবদুস সাত্তারসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় লোকজন।

এর আগে, ১৪ ফেব্রুয়ারি ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর গ্রামে জহুরার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দেয় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’। তখন সংসার পরিচালনা, সন্তানদের ভরণপোষণ ও পড়ালেখার দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মশিউর রহমান বিপ্লবের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল জহুরার সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার আশ্বাস দেয় এবং বিষয়টি দলের তারেক রহমানের নজরে আনা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ভোট দিতে যাওয়ায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন কাওসার তার স্ত্রী বিবি জহুরাকে মৌখিকভাবে তালাক দেন।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কাওসারকে আটক করে মারধর করে। পরে স্ত্রীকে দেওয়া তালাক ফিরিয়ে নেবেন জানিয়ে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান তিনি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জহুরা প্রথমবারের মতো ভোটার হওয়ায় উৎসাহ নিয়ে তিন সন্তানকে সঙ্গে করে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন। তখন কাওসার ঘুমিয়ে ছিলেন। বিকালে বিষয়টি জানতে পেরে মাগরিবের সময় তিনি জহুরাকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন। জহুরা প্রথমবার ভোট দেওয়ার কথা জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি বাড়ির পাশের রাস্তায় তাকে মৌখিক তিন তালাক দেন এবং ঘরে যেতে নিষেধ করেন।
২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াবাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে জহুরার সঙ্গে কাওসারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আবদুল আলিম শুভ (১২), সাবিনা আফরিস ইভানা (৮) ও ইসরাত জাহান ইসমাত (৪) নামে তিন সন্তান রয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, কাওসার আওয়ামী লীগ আমলে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে মানুষকে জিম্মি করে রাখতেন। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বর্তমানে জহুরা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। কাওসার ফেনী শহরের রেলগেট এলাকায় বেডিং কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি অনেকটা গৃহবন্দি হয়ে পড়েন।


