দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: সাঁতরে তীরে উঠতেই খাইরুলের ফোন ছিনতাই

দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: সাঁতরে তীরে উঠতেই খাইরুলের ফোন ছিনতাই
খাইরুল ইসলাম খাঁ। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

দুর্ঘটনার সময় জীবন বাঁচাতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় পেয়েছিলেন খাইরুল। সময় নষ্ট করেননি তিনি। দ্রুত বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে পড়েন নদীতে। পরে নদী সাঁতরে কোনোক্রমে তীরে পৌঁছান। কিন্তু ওঠার সঙ্গে সঙ্গে একজন তার হাতে থাকা মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়।

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রী ছিলেন কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার খাইরুল ইসলাম খাঁ (২৬)। তিনি উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের মৃত কুদ্দুস খাঁর ছেলে।

ঢাকার একটি টেক্সটাইল মিলে মেশিন ম্যান পদে কাজ করেন খাইরুল। ঈদের ছুটি শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছিলেন তিনি।

খাইরুল জানান, তার সিট নম্বর ছিল বি-২। ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর পাশের সিটের এক যাত্রীকে বসতে দিতে উঠে দাঁড়াতেই বাসটি হঠাৎ ঝাঁকুনি খায় এবং তিনি দরজা দিয়ে নদীতে পড়ে যান। তিনি বলেন, ‘কীভাবে পানিতে পড়লাম বুঝিনি, সাঁতরে তীরে উঠেছি। তবে নদী থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে একজন উদ্ধারকারী মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়, আর ফেরত পাইনি।’

আরও পড়ুন

বাসের সবগুলো সিটে যাত্রী ছিল উল্লেখ করে খাইরুল জানান, বিশেষ করে নারী যাত্রীদের সঙ্গে শিশুরা ছিল।

বাসটি কে চালাচ্ছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নিশ্চিত করে বলেন, চালক নিজে চালাচ্ছিলেন। ঘটনাস্থলে চালকের লাশ উদ্ধার করা হলেও, সহকারী ও সুপারভাইজর তখন বাইরে থাকায় তারা বেঁচে ফিরেছেন।

কুষ্টিয়া জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার বলেন, বাসটি রাজবাড়ী জেলার মালিকানাধীন, তবে চালানো হয় কুমারখালি থেকে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে ৪৫ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। একে একে উদ্ধার করা হয় ২৬ জনের মরদেহ। জীবিত উদ্ধার করা হয় ৮ জনকে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad