আরব আমিরাত ও কুয়েতের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান দাবি করেছে, তাদের নৌবাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-মিনহাদ বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করেছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, এই দুই ঘাঁটি ইরানের ভূখণ্ডে হামলার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল। এর জবাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব হামলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা, রাডার ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসব হামলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং বাস্তব পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি যাচাই করা যায়নি। কিছু ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতি সীমিত ছিল বলেও জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের অংশ হিসেবেই এ ধরনের হামলা বাড়ছে, যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
আইআরজিসির ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানায় হামলার দাবি ইসরায়েলের
ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির একটি কারখানায় হামলার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে আইআরজিসির একটি প্রধান কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম তৈরি করা হয়।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর দাবি, ‘এ হামলার ফলে ওইসব স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম তৈরির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এতে করে ইরানের শক্তি কমবে।’
সূত্র: আল-জাজিরা
ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানে আঘাত হানার দাবি আইআরজিসির
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, তারা ইরানের আকাশসীমায় থাকা একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানে আঘাত করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। ]
অন্যদিকে, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে তাদের একটি যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশসীমায় অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট ফায়ারের মুখে পড়েছিল। তবে পাইলট আগেভাগেই হুমকি শনাক্ত করতে সক্ষম হওয়ায় কোনো ক্ষতির মুখে পড়েনি এবং যুদ্ধবিমানটি পরিকল্পনা অনুযায়ী মিশন সম্পন্ন করে ফিরে আসে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, যুদ্ধ চলাকালে তারা ইরানের আকাশে ২০০টিরও বেশি আকাশযান ধ্বংস বা আঘাত করেছে—এর মধ্যে ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল, রিফুয়েলিং বিমান এবং যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত।
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন মোদী
[caption id="attachment_3019" align="aligncenter" width="800"]
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত[/caption]
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদী লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ড. মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছি, ঈদ ও নওরোজের (ইরানি নববর্ষ) শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আশা করি, এই উৎসবের মৌসুম পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।’
অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘এসব হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে ফেলে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত করে।’
কথোপকথনে ‘নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা এবং শিপিং লেনগুলো খোলা ও নিরাপদ রাখার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত’ করেছেন বলেও জানান মোদী। পাশাপাশি ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় ইরানের অব্যাহত সহায়তার প্রশংসা করেন তিনি।
সূত্র: গার্ডিয়ান
ইরানে হামলা আরও তীব্রতর হবে: ইসরায়েল
ট্রাম্পের মুখে ইরান যুদ্ধ গুটিয়ে আনার আভাস মিললেও ইসরায়েল বলছে ভিন্ন কথা। সেখানকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, আগামী সপ্তাহে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা আরও ‘তীব্রতর’ হবে।
এএফপিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি জানান, দেশটির বিরুদ্ধে হামলার মাত্রা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে’ বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন: ‘চলতি সপ্তাহে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের তথাকথিত সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থা ও এর ওপর নির্ভরশীল অবকাঠামোর বিরুদ্ধে চালানো হামলার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।’
হিজবুল্লাহর চার যোদ্ধাকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের
ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান গুটিয়ে আনার কথা ভাবছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ‘ক্রমশ কমিয়ে আনার’ কথা বিবেচনা করছেন। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের সংকট মোকাবিলায় সাময়িকভাবে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা আমাদের লক্ষ্যের অনেকটাই অর্জন করে ফেলেছি। তাই মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বৃহৎ সামরিক প্রচেষ্টা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার কথা বিবেচনা করছি।’ তার এমন পোস্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে হয়তো ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাত শিগগিরই শেষ করার জন্য তিনি প্রস্তুত হতে পারেন।
ট্রাম্পের এমন পোস্টের পরই হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘এই মিশন সম্পন্ন করতে আনুমানিক ৪–৬ সপ্তাহ সময় লাগবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট এবং পেন্টাগন।’
বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায়, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে জাহাজে লোড করা ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নেওয়া হচ্ছে। এই অনুমতির ফলে ২০ মার্চের আগে জাহাজে তোলা ইরানি অপরিশোধিত তেল এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সরবরাহ ও বিক্রি করা যাবে।
সূত্র: গার্ডিয়ান


