সার্ভার-ডিসিপিতে সমস্যায় অনেক হলে চলেনি ‘প্রিন্স’, দর্শকদের ভাঙচুর

সার্ভার-ডিসিপিতে সমস্যায় অনেক হলে চলেনি ‘প্রিন্স’, দর্শকদের ভাঙচুর
Advertisement
Advertisement

ঈদুল ফিতর আজ (২১ মার্চ)। এ উপলক্ষ্যে ঐতিহ্য অনুযায়ী দেশের সিনেমা হলগুলোতে মুক্তি পেয়েছে পাঁচটি ছবি—‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইমস ইন ঢাকা’, ‘দম’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘রাক্ষস’ ও ‘প্রেশার কুকার’। এর মধ্যে সর্বাধিক ১৩৩ হলে চলার কথা ‘প্রিন্স’। কিন্তু অভিযোগ এসেছে ৫০টির অধিক হলে দুপুর আড়াইটায় সংবাদটি লেখা পর্যন্ত ছবিটির কোনো শো চলে নি। এর জন্য বিক্ষুদ্ধ দর্শকরা হলগুলোতে ভাঙচুর করেছে।

আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত ‘প্রিন্স’-এ অভিনয় করেছেন শাকিব খান, তাসনিয়া ফারিণ ও কলকাতার জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু।

টাইমস অব বাংলাদেশকে কয়েকজন সিনেমা হল মালিক এ নিয়ে অভিযোগ জানান। এছাড়া আমাদের হাতে হল মালিকদের মধ্যকার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের কিছু স্ক্রিনশট ও ভয়েস রেকর্ড এসেছে। সেগুলোতে হল মালিকরা অভিযোগ করছেন, সার্ভার সমস্যার কারণে তারা ছবি চালাতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে তারা সকালের শোয়ের টিকেটের টাকা ফেরত দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন হল মালিক টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, অধিকাংশ সিনেমা হলে জাজ মাল্টিমিডিয়ার সার্ভার ব্যবহার করা হচ্ছে এক যুগের বেশি সময় ধরে। সম্প্রতি তারা আগের সার্ভার বদলে নতুন সার্ভার দিয়েছেন। কিন্তু নতুন সার্ভারে ছবি চালাতে গিয়ে হল মালিকরা বিপাকে পড়েছেন। অধিকাংশ হলে ছবি চলছে না। যেখানে চলছে সেখানে শব্দ আসছে না। আবার অনেক হল মালিক ফাইল পেয়েছেন কিন্তু ছবি চালানোর জন্য পাসওয়ার্ড পাননি। এমনকি অনেক হলের সার্ভারে ২১ মার্চ দুপুর পর্যন্ত ছবিই আপলোড হয়নি।

টেকের হাট সোনালী সিনেমা হলের মালিক রাহুল খান জানান, তিনি কয়েক লাখ টাকা দিয়ে ‘প্রিন্স’ নিয়েছেন ঈদে চালানোর জন্য। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত সার্ভারে ছবিই লোড হয়নি। তিনি দুপুরের শোয়ের ১৫ হাজার টাকার টিকেট বিক্রি করেছিলেন। তা ফেরত দিয়েছেন দর্শকদের। এর আগে সকালের শো চালাতে না পারায় বিক্ষুদ্ধ দর্শকরা তার হলের চেয়ার ভেঙেছে।

আরও পড়ুন

শুধু সাধারণ সিনেমা হল নয়, দেশের সবচেয়ে বড় মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সও ‘প্রিন্স’-র কোনো ডিসিপি (ডিজিটাল সিনেমা প্রজেকশন) ফাইল পায়নি। ২১ মার্চ দুপুর ২টায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপচারিতায় হলটির মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের এজিএম মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, ঈদের পাঁচটি ছবিই তারা চালাতে চেয়েছেন। দুঃখজনকভাবে দুপুর পর্যন্ত তাদের হাতে ৪টি ছবির ফাইল আসলেও ‘প্রিন্স’র আসেনি।

তিনি বলেন, “ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে হল মালিকরা আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়। কারণ এ সময়ে প্রচুর দর্শক সিনেমা দেখতে হলে যায়। কিন্তু আমরা গতকাল (২০ মার্চ) রাতে পেয়েছি তিনটি ছবির ফাইল। সকালে পেয়েছি ‘প্রেশার কুকার’-র ফাইল। এখন পর্যন্ত ‘প্রিন্স’ আমাদের কোনো ফাইল দিতে পারেনি।”

মেসবাহ আরও বলেন, ‘প্রযোজকরা ঈদে ছবি মুক্তি দিতে চান। কিন্তু তারা ঈদের দিনেও ছবির ফাইল দিতে পারেন না। ব্যাপারটা দুঃখজনক। এতে করে আমাদের কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়ে গেল।’

‘প্রিন্স’-র পরিবেশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে পরিচালক অনন্য মামুনের প্রতিষ্ঠান অ্যাকশন কাট এন্টারটেইনমেন্ট। হল মালিকরা, এ পরিস্থিতির জন্য অনন্য মামুনকে দোষারোপ করছেন। তারা ৩-৪ দিনের মধ্যে একটি কমিটি গঠন করে তার কাছে ক্ষতিপূরণ চাইবেন বলে টাইমস অব বাংলাদেশের কাছে জানান।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে অনন্য মামুনের ফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। এমনকি ছবির প্রযোজনা সংস্থা ক্রিয়েটিভ ল্যান্ডসের কর্ণধার শিরিন সুলতানাও সাড়া দেননি।

প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল জানান, তারা এ সম্পর্কিত অনেক অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তারা পরিবেশকের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad