দক্ষিণ এশিয়ার পাহাড়ি দেশ নেপালে বাস দুর্ঘটনায় ব্রিটিশ পর্যটকসহ অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন।
পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সোমবার ভোরে পর্যটন নগরী পোখরা থেকে কাঠমান্ডু যাওয়ার পথে ধাদিং জেলার ত্রিশুলি নদীতে ৬৫৫ ফুটেরও বেশি গভীরে বাসটি পড়ে যায়।
ধাদিং জেলা পুলিশ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ২৪ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। এখন পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে মাত্র নয়জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে কয়েক ডজন যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আহতদের মধ্যে এক চীনা নাগরিক রয়েছেন, যিনি কাঠমান্ডুর ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া নিউজিল্যান্ডের ২৭ বছর বয়সী এক নারী সামান্য আহত হয়েছেন এবং তাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নেপালে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের বরাতে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, আরও একজন চীনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
সরকারি প্রশাসক মোহন প্রসাদ নেউপানে বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে জীবিতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠায়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
নেপালে প্রায়ই বাস দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। সাধারণত রাস্তার বেহাল অবস্থা ও যানবাহনের অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণকে এর পেছনে দায়ী করা হয়। হিমালয়বেষ্টিত এই দেশটি মূলত সরু ও আঁকাবাঁকা পাহাড়ি সড়কের ওপর নির্ভরশীল।
২০২৪ সালে ৬৫ জন যাত্রী বহনকারী দুটি বাস একই ত্রিশূলি নদীতে পড়ে গেলে অধিকাংশ আরোহী নিহত বা নিখোঁজ হন। বাসগুলোর একটির ধ্বংসস্তূপ বালুর নিচে গভীরে চাপা পড়ে ছিল, যা চলতি বছর উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।


