টেকনাফ সীমান্তে স্থলমাইন: জেলে ও গ্রামবাসীদের মাঝে আতঙ্ক

টেকনাফ সীমান্তে স্থলমাইন: জেলে ও গ্রামবাসীদের মাঝে আতঙ্ক
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বিলাইচ্ছর দ্বীপ এলাকায় পুঁতে রাখা স্থলমাইন। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের নাফ নদীতে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থলমাইন দেখা গেছে। এতে পুরো সীমান্ত এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বুধবার দুপুরে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বিলাইচ্ছর দ্বীপ এলাকায় জেলেরা প্রথম এই মাইনটি দেখতে পান। এলাকাটি বিজিবির ৬৪ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন।

স্থানীয় জেলেরা জানান, মাছ ধরতে গিয়ে তারা নদীর তীরের মাটিতে পুঁতে রাখা একটি মাইন দেখতে পান। এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ঢুকে যায়। বিজিবি ও গোয়েন্দা সূত্র থেকে জানা গেছে, মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি এই মাইনগুলো পুঁতে রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মূলত গত ১১ জানুয়ারি আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গাদের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষ হয়। এরপরই আরাকান আর্মি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বিলাইচ্ছর দ্বীপ, তোতার দ্বীপ, শাহজাহানের দ্বীপসহ প্রায় পাঁচটি দ্বীপে প্রচুর মাইন পুঁতে রাখে। স্থানীয়দের দাবি, এই দ্বীপগুলোতে অন্তত ৩০০টি মাইন রয়েছে।

ইতিমধ্যেই এই মাইনের কবলে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার সকালে লম্বাবিল এলাকায় নৌকা দেখতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে মোহাম্মদ হানিফ নামের এক জেলের একটি পা উড়ে গেছে। তিনি এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

আরও পড়ুন

আহত হানিফের মা জাহানারা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার ছেলেই সংসার চালাত, এখন তার পা নেই। আমাদের ভবিষ্যৎ কী হবে? এই দায় কে নেবে?” হানিফের ভাই নুর আহমদ জানান, গোলাগুলির পর যে সেখানে মাইন রাখা হয়েছে, তা তারা জানতেন না। এখন জীবন আর রুটি-রুজি দুটোই হুমকির মুখে।

সীমান্তের এই উত্তপ্ত অবস্থায় নারী ও শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক সবচেয়ে বেশি। এর আগে মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে শিশু আফনান আহত হয়ে বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন। স্থানীয় বাসিন্দা লায়লা বেগম ও রোজিনা আক্তার জানান, গুলির শব্দে তারা রাতে ঘুমাতে পারেন না। নদীতে যেতে না পারায় ঘরে খাবার নেই। জেলে আব্দুল্লাহ জানান, মাইনের আঘাতে ছাগল মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। লম্বাবিল এলাকার সৈয়দ আলম বলেন, “নদীতে না নামলে আমরা না খেয়ে মরব। সরকার আমাদের নিরাপদ কোথাও সরিয়ে নিক।”

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল জানান, নাফ নদীর পাড়ে মাইন পুঁতে রাখা খুবই উদ্বেগের বিষয়। জেলেরা ভয়ে মাছের ঘেরে যেতে পারছে না। তিনি দ্রুত বিজিবিকে এই মাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করার অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে ৬৪ বিজিবি জানিয়েছে, তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং সীমান্তে টহল বাড়ানো হয়েছে। বিজিবির একজন কর্মকর্তা জানান, তারা দ্রুত এসব মাইন ধ্বংস করার ব্যবস্থা নেবেন। অন্যদিকে ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এসএম খায়রুল আলম বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং মাইন সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad