শেওড়াপাড়ার জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন

শেওড়াপাড়ার জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন
প্রতীকী ছবি
Advertisement
Advertisement

রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় দুই বোনকে হত্যার ঘটনায় এক নিকটাত্মীয় জড়িত বলে দাবি করেছে পুলিশ। সম্পদ ও সম্পত্তি দখলে নিতেই এ জোড়া খুন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটকের পর পুলিশ রোববার এসব তথ্য জানিয়েছে। তবে আটক ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। দ্রুতই হত্যাকান্ডের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবো বলে আশা করি।’

ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাকছুদের রহমান বলেন, ‘সম্পত্তির দ্বন্দ্বে নিহতদের নিকত্মীয় এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাকে ডিবি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। মামলাটি রোববার ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবি থেকেই পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।’

আরও পড়ুন

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, ‘চেনাজানা কোনও ব্যক্তি দুই বোনকে খুন করেছে বলে মনে করা হচ্ছিল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দোতলা থেকে নিচে নামছেন। তার হাতে একটি কালো ব্যাগ ছিল, মুখে মাস্ক আর মাথায় ক্যাপ ছিল। ক্যামেরা থেকে নিজেকে আড়াল করতে তিনি মাথা নিচু করে রেখেছিলেন।’

তদন্ত সংশ্লিস্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দুই বোন বাসাটিতে থাকা অবস্থায় এক নিকটাত্মীয় সেখানে যান এবং তাদের খুন করে পালিয়ে যান বলেই ধারণা মিলেছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি যে পোশাকে বাসাটিতে ঢোকেন, প্রায় দুই ঘণ্টা পর বের হন অন্য পোশাকে। তাকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সম্পত্তির বিরোধ নিয়ে তথ্য দিলেও সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে।’

স্বজনরা জানান, পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় ‘নার্গিস’ নামে ভবনের বি-১ ফ্ল্যাটে থাকতেন দুই বোন মরিয়ম বেগম (৬০) ও সুফিয়া বেগম (৫২)। মরিয়ম বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সহকারী পরিচালক (সমন্বয়) ছিলেন। ২০২১ সালে তিনি অবসরে যান। তার স্বামী কাজী আলাউদ্দিন বন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, তিনি বেশিরভাগ সময় বরিশালের গ্রামের বাড়িতে থাকেন। তাদের পুত্র সন্তান নেই। বড় মেয়ে ইসরাত জাহান খুসবু থাকেন আমেরিকায়। আর ছোট মেয়ে নুসরাত জাহান বৃষ্টি ঢাকায় একটি বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। ঘটনার সময় নুসরাত জাহান অফিসে ছিলেন। তিনিই বাসায় এসে মা ও খালার রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। নিহত সুফিয়া অবিবাহিত ও মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন বলে জানান স্বজনরা।

গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে পুলিশ পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসাটি থেকে মরিয়ম ও তার ছোট বোন সুফিয়া বেগমের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। আলামত বিশ্লেষণে এ জোড়া খুনের ঘটনা শুক্রবার দুপুরে ঘটেছে বলে পুলিশের ধারণা। জোড়া খুনের ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad