নওগাঁয় এএসপির বিরুদ্ধে বাসচালককে নির্যাতনের অভিযোগ

নওগাঁয় এএসপির বিরুদ্ধে বাসচালককে নির্যাতনের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

নওগাঁর সাপাহারে বাসের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক বাসচালককে অফিসে ডেকে নিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শ্যামলী রানী বর্মনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসমালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী বাসচালকের নাম বাদল। তিনি রাজশাহীগামী ‘হিমাচল’ পরিবহনের চালক। অভিযোগ অনুযায়ী, গত রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাপাহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

এর আগে ওইদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাপাহার থেকে রাজশাহীগামী ‘হিমাচল’ পরিবহনের একটি বাসে সিটবিহীন টিকিট কেটে যাত্রী হন এএসপি শ্যামলী রানী বর্মনের স্বামী, কলেজ শিক্ষক জয়ন্ত বর্মন। তিনি ধানসুরা নামার উদ্দেশ্যে বাসে ওঠেন। বাসটি দিঘার মোড়ে পৌঁছালে রাজশাহীগামী যাত্রীর জন্য নির্ধারিত সিটটি ছাড়তে অনুরোধ করেন সুপারভাইজার সিয়াম। এ নিয়ে জয়ন্ত বর্মনের সঙ্গে সুপারভাইজার ও পরে চালক বাদলের তর্ক হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সময় জয়ন্ত বর্মন নিজেকে সার্কেল এএসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে চালক ও সুপারভাইজারকে হুমকি দেন এবং ‘দেখে নেওয়ার’ কথা বলেন। ধানসুরায় নেমে যাওয়ার সময়ও তিনি হুমকি দিয়ে যান।

পরবর্তীতে জয়ন্ত বর্মন বাস থেকে নেমে গেলে সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মন সাপাহারের টিকিট মাস্টারকে অফিসে ডেকে নেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে বাসচালক বাদলকে কল করে চালক ও সুপারভাইজারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যাত্রাপথে একাধিকবার ফোন আসায় বাসটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে রাজশাহীতে পৌঁছায়।

আরও পড়ুন

রাত ১০টার দিকে বাসটি রাজশাহী থেকে পুনরায় সাপাহারে ফিরলে চালক বাদলকে বাসস্ট্যান্ড থেকে এএসপির কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং প্রথমেই পেটে লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ করেন বাদল। পরে জয়ন্ত বর্মন ও এএসপির বডিগার্ড আনন্দ বর্মন তাকে মারধর করেন। অভিযোগ রয়েছে, বডিগার্ড এসএস পাইপ দিয়ে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।

অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয় কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা না নেওয়ার শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরদিন সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন তিনি। বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি বাড়িতে বিশ্রামে আছেন।

বাসচালক বাদল বলেন, ‘আমাকে অফিসে ডেকে নিয়ে শরীরের সংবেদনশীল জায়গায় মারধর করা হয়েছে। বডিগার্ডকে বলা হয় হাত-পা ভেঙে দিতে। আমি এর বিচার চাই। আমরা শ্রমিক বলে কি মানুষ না?’

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, ‘একজন চালককে অফিসে তুলে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। আমরা দ্রুত এএসপিকে প্রত্যাহার ও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা দাবি করছি। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মন বলেন, ‘আমার স্বামীর সঙ্গে ফোনে খারাপ ব্যবহার করার বিষয়টি আমি নিজে শুনেছি। ড্রাইভার রাতে অফিসে এসে দুঃখ প্রকাশ করেছে। মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিষয়টি মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad