শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলে আয়োজিত ‘চিত্র প্রদর্শনী ও তুলির সাহায্যে দ্রোহ প্রকাশ’ অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আঁকা যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজম, মতিউর রহমান নিজামী ও কাদের মোল্লার ছবি মুছে ফেলার ঘটনায় এখনো স্পষ্ট নয়, কারা নিয়েছে এই পদক্ষেপ।
ঘটনার এক দিন পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো দপ্তর থেকে ছবিগুলো মুছে ফেলার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি জানতে টাইমস অব বাংলাদেশের প্রতিবেদক জগন্নাথ হল প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস, গণসংযোগ দপ্তর এবং এস্টেট অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রতিটি দপ্তর ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছে।
যুদ্ধাপরাধীদের ছবি মুছে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জগন্নাথ হল সংসদ।
হল সূত্রে জানা গেছে, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার রাতে শিক্ষার্থীরা রাজাকার গোলাম আজম, মতিউর রহমান নিজামী ও কাদের মোল্লার ছবি আঁকেন। তবে নির্ধারিত কর্মসূচি শুরুর আগে ছবিগুলো মুছে ফেলা হয়।
জগন্নাথ হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) পল্লব বর্মন বলেন, ‘আমাদের অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল সকাল ১১টায়। কিন্তু হল সংসদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছবিগুলো মুছে দিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে জানতে ঢাবির প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে সহকারী প্রক্টর এ কে এম নূর আলম সিদ্দিকী টাইমসকে বলেন, ‘এটি জগন্নাথ হল প্রশাসন থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রক্টর দপ্তরের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’
অন্যদিকে, হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ছবিগুলো মুছে ফেলা হয়েছে।’
তিনি জানান, আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত দপ্তরের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত এসেছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণসংযোগ দপ্তর ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। গণসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম টাইমসকে বলেন, ‘জগন্নাথ হলে আঁকা যুদ্ধাপরাধীদের ছবিগুলো এস্টেট অফিস থেকে মুছে ফেলা হয়েছে।’
এ বিষয়ে ঢাবির এস্টেট ম্যানেজার ফাতেমা বিনতে মুস্তাফার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
পরে সহকারী এস্টেট ম্যানেজার মো. আলী আশ্রাফ টাইমস প্রতিবেদকেকে জুনিয়র সিকিউরিটি অফিসার মুনির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
মুনির হোসেন বলেন, ‘জগন্নাথ হলের বিষয় আমরা কীভাবে দেখব? এটি হয়তো হল প্রশাসন কিংবা প্রক্টর অফিস থেকে করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জগন্নাথ হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক কথক বিশ্বাস টাইমসকে বলেন, ‘হল সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘তুলির আচরের দ্রোহ’ অনুষ্ঠানে হলের শিল্পীরা স্বতন্ত্রভাবে ছবি আঁকেন। হল সংসদের পক্ষ থেকে শুধু রং সরবরাহ করা হয়েছিল, কী আঁকা হবে সে বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনুষ্ঠান ও সেগমেন্ট সম্পর্কে প্রশাসনকে অবগত করেছিলাম, তবে কে কী আঁকবে তা পূর্বনির্ধারিত ছিল না। নির্বাচিত হল সংসদকে না জানিয়ে এভাবে ছবি মুছে ফেলা আমরা প্রশাসনের কর্তৃত্ববাদী আচরণ বলে মনে করি।’


