রাশিয়ায় দক্ষিণাঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। রুশ কর্মকর্তারা জানান, সোমবার রাতভর ইউক্রেনের হামলায় কৃষ্ণ সাগরের বন্দর নোভোরোসিস্ক এবং রোস্তভ-অন-ডন ও ক্রাসনোদার শহরের আবাসিক ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশসীমা থেকে অন্তত ২৪৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১১৬টি কৃষ্ণ সাগরের ওপর এবং ৯২টি দক্ষিণের ক্রাসনোদার ও রোস্তভ অঞ্চলে ভূপাতিত করা হয়।
রোস্তভের গভর্নর ইউরি স্লিউসার বলেছেন, হামলায় একটি রঙের দোকান, একটি গুদাম, চারটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন এবং ১২টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
টেলিগ্রামে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন সরাসরি রাশিয়ার নোভোরোসিস্ক শহরের একটি বড় আবাসিক ভবনে আছড়ে পড়ে বিস্ফোরিত হয়েছে। এ শহরেই গুরুত্বপূর্ণ তেলবন্দরের অবস্থান।
ক্রাসনোদার গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ বলেন, ‘রাতে ক্রাসনোদার কিয়েভের থেকে পরিচালিত অন্যতম দীর্ঘ ও বৃহৎ হামলার শিকার হয়েছে। তেল রপ্তানি টার্মিনালের পাশের শহর তুয়াপসের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
নোভোরোসিস্ক শহরের সাতটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনেও ড্রোন হামলার খবর নিশ্চিত করেন তিনি।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দাবি, মঙ্গলবার ভোরে কিয়েভে রুশ হামলায় অন্তত দুইজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন। ওই হামলায় অন্তত দুটি আবাসিক ভবনে আগুন ধরে যায়।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি পরিষেবা টেলিগ্রামে জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে তিনজন শিশুসহ ১৮ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় সেন্ট্রাল পেচেরস্ক জেলায় একটি আবাসিক ভবন ও ডনিপ্রোভস্কি জেলায় আরেকটি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
টেলিগ্রামের ভিডিওতে দেখা গেছে, ডনিপ্রোভস্কির নয়তলা একটি ভবনে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। এ ভবনের অন্তত চারজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কিয়েভ সিটি প্রশাসনের প্রধান তিমুর ত্কাচেঙ্কো।
ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোগুলোও এ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়।


