বরিশালে অপসো স্যালাইনের চাকরিচ্যুতদের মহাসড়ক অবরোধ

বরিশালে অপসো স্যালাইনের চাকরিচ্যুতদের মহাসড়ক অবরোধ
Advertisement
Advertisement

চাকরিতে পুনর্বহালসহ দুই দফা দাবিতে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন অপসো স্যালাইন ফার্মাসিউটিক্যালসের চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা।

শনিবার বেলা ১২টা থেকে বরিশাল নগরীর চৌমাথা এলাকায় মহাসড়কে নারী-পুরুষ শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ শুরু করেন।

এর আগে, শ্রমিকরা বগুরা রোডে অবস্থিত অপসো স্যালাইন কারখানার সামনে জড়ো হন। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে তারা চৌমাথা মোড়ে পৌঁছান। মহাসড়ক অবরোধের ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দুই পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী, চালক ও সাধারণ মানুষ।

শুরুতে পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ঠেকানোর চেষ্টা করলেও বিক্ষোভের মুখে সড়কের একপাশে সরে যায়। বিক্ষোভস্থলে শ্রমিকদের কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে যোগ দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বরিশাল মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক মনীষা চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

শ্রমিকরা জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন ২২০ টাকা হাজিরায় কাজ করছিলেন। পরে প্রতিষ্ঠানটি তাদের মাস্টাররোলে অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু মাত্র ১ বছর পর বিনা নোটিশে ৫৭০ জন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়। এতে তাদের জীবিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

চাকরিচ্যুত হওয়া শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের বাদ দিয়ে কোম্পানি নতুনভাবে ১ হাজার ২০০ শ্রমিক নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। তারা বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত, শ্রমিকবিরোধী সিদ্ধান্ত। আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন

আন্দোলনরত শ্রমিক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘১৭ দিন ধরে আন্দোলন করছি। জেলা প্রশাসন ও শ্রম অধিদপ্তরের উদ্যোগে বৈঠক হলেও কোম্পানি দাবি মানেনি। চাকরিচ্যুত করার ১ মাস আগে আমাদের ইউনিয়ন অনুমোদন হয়, এ কারণেই আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে।’ পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান তিনি।

বাসদ নেত্রী মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ‘অযৌক্তিকভাবে ৫৭০ শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলনের পরও মালিকপক্ষ শ্রমিকদের পুনর্বহাল বা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করেনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘শ্রমিকদের পুনর্বহালের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধের ফলে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে।’

অপসো স্যালাইন কারখানায় আন্দোলন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কয়েকশ শ্রমিক কারখানার প্রধান ফটকসংলগ্ন বগুরা সড়কে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতীকী অনশন করেন। মালিকপক্ষের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর তারা এ কর্মসূচির ডাক দেন।

অপসো স্যালাইন দেশের অন্যতম বড় ওষুধ প্রস্তুতকারী অপসোনিন গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান। কারখানায় প্রায় এক হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। গত ২৯ অক্টোবর স্টুরিপ্যাক (সিরিঞ্জ ও স্যালাইন সেট প্রস্তুতকারী) শাখার ৫৭০ শ্রমিককে চাকরিচ্যুতির চিঠি দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ৩০ অক্টোবর থেকে শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও আন্দোলন শুরু করেন।

অপসো স্যালাইন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিব মিয়া জানান, বুধবার বিকাল ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের মধ্যস্থতায় বৈঠক হলেও মালিকপক্ষ ছাঁটাই সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। তারা যুক্তি দেন, কারখানা চালাতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের লোকসান হচ্ছে। অন্যদিকে শ্রমিকরা পুনর্বহাল দাবি জানালেও কোনো পক্ষ ছাড় না দেওয়ায় বৈঠক সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad