বাংলাদেশ এবং জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) চূড়ান্ত করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি আনবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।
মঙ্গলবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) গুলশান সেন্টারে সংস্থার সভাপতি তাসকিন আহমেদের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে দুদেশের মধ্যে দৃঢ় অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করা হয়।
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ জাপানের বাংলাদেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেন।
এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো (ইপিবি) এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ এবং জাপানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৩ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে রপ্তানি ছিল ১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ছিল ১ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার। জাপান বাংলাদেশের ১২তম বৃহত্তম রপ্তানি বাজার, ৯ম বৃহত্তম আমদানি উৎস এবং ১১তম বৃহত্তম বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগকারী হিসেবে অবস্থান করছে।
তাসকিন আহমেদ আরও বলেন, জাপানি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে সার, নির্মাণ, টেক্সটাইল, শক্তি এবং পেট্রোলিয়াম খাতে ৫০৭ দশমিক ১৪ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। তিনি জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুবিধা গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করেন এবং তথ্য প্রযুক্তি (আইসিটি), অবকাঠামো এবং দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন ছোট ও মাঝারি আকারের উদ্যোক্তা (এসএমই) খাতগুলোর দিকে নজর দিতে বলেন। ‘জাপানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাংলাদেশের শিল্পায়নে বিপ্লব ঘটাতে পারে,’ তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত শিনিচির সঙ্গে একমত হয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্ধিত অভ্যন্তরীণ বাজার এবং জাপানি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে তিনি শিল্পের বৈচিত্র্য বাড়ানোর এবং সরকারি সেবা দক্ষতা উন্নত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন, যেন দেশটির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের দক্ষ আইটি পেশাদারদের জাপানের উন্নত প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা করার সুযোগ রয়েছে, যা দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে।’
রাষ্ট্রদূত শিনিচি বলেন, ‘সম্প্রতি টোকিওতে এপিএর সপ্তম রাউন্ডের আলোচনা শেষ হয়েছে এবং দুই পক্ষ চুক্তি সই করতে প্রস্তুত।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অংশীদারত্ব দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
বৈঠকে ডিসিসিআই সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজীব এইচ চৌধুরী এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সালিম সুলায়মানও উপস্থিত ছিলেন।


