দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করা গেলে নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা পূরণের পাশাপাশি সমৃদ্ধ আগামীর স্বপ্নও নিশ্চিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আগামীকাল শনিবার ‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক তথ্যবিবরণীতে এ বাণী প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে জেনে রাষ্ট্রপতি আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, এ বছরের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রস্তুতিতে সুন্দর আগামী গড়ি,’ সময়োপযোগী ও জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ, যার এক-তৃতীয়াংশই তরুণ প্রজন্ম। তারাই দেশের ভবিষ্যৎ ও প্রধান চালিকাশক্তি। নতুন প্রজন্মের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের বিকল্প নেই।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার যুবসমাজকে সুশিক্ষিত, দক্ষ, স্বাবলম্বী ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, কর্মমুখী শিক্ষা এবং ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি মাদক, বাল্যবিবাহ ও সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে।
এসব উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের বিকাশ, জীবনমান উন্নয়ন, দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, সুস্থ ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে নাগরিক সুস্বাস্থ্য এবং পরিকল্পিত পরিবার অপরিহার্য। তাই স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য এবং বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর ও সর্বজনীন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপতি সরকারের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে তরুণদের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।


