মারা গেছেন ‘সোহরাব রুস্তম’ নায়িকা

মারা গেছেন ‘সোহরাব রুস্তম’ নায়িকা
চিত্রনায়িকা বনশ্রী। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ইলিয়াস কাঞ্চন অভিনীত ‘সোহরাব রুস্তম’ মুক্তি পেয়েছিল ১৯৯৪ সালে। ছবিটিতে তার বিপরীতে অভিষেক হয়েছিল বনশ্রীর। কিন্তু ব্যবসা সফল ছবিটির নায়িকার শেষ জীবন কেটেছিলো বস্তিতে। অসুস্থ অবস্থায় মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে তিনি মারা গিয়েছেন মাদারীপুরে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। বিষয়টি নিশ্চিত করছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান।

তিনি জানান, চিত্রনায়িকা বনশ্রী বেশকিছু অসুখে ভুগছিলেন। মঙ্গলবার তিনি মারা গেছেন। তাকে শিবচর পৌর গোরস্থানে দাফন করা হবে।

সনি রহমান বলেন, ‘বনশ্রী আপার ভাইয়ের মাধ্যমে জানতে পেরেছি উনি গত পাঁচদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার হৃদরোগ, কিডনির সমস্যাসহ একাধিক ব্যাধি ছিল। তিনি চলে যাওয়ার আগে অনেক কষ্ট করেছেন। এক সন্তান রেখে গেছেন।’

শিবচরের মাদবরের চর ইউনিয়নের মেয়ে বনশ্রী। ইউনিয়নের শিকদারকান্দি গ্রামে জন্ম তার। বাবা মজিবুর রহমান মজনু শিকদার ও মা সবুরজান রিনার দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে বনশ্রী বড়। সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে রাজধানী ঢাকায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন তিনি।

আরও পড়ুন

বনশ্রী ‘সোহরাব রুস্তম’-এর সফলতার পর আরও গোটা দশেক সিনেমায় অভিনয় করেন। মান্না, আমিন খান, রুবেলের বিপরীতেও নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন বনশ্রী। রুপালি পর্দার মতো জীবনও হয়ে ওঠে আলো ঝলমল।

তবে খুব বেশিদিন সেই সুখ সয়নি বনশ্রীর কপালে। ১৯৯০-এর শেষে বনশ্রীর আলো-ঝলমল জীবনে ঘটল ছন্দপতন-ছিটকে গেলেন চলচ্চিত্রজগৎ থেকে। এরপর একে একে হারালেন বিত্ত-বৈভব। ঠাঁই হলো বস্তিতে। একসময় তার কাছ থেকে ছিনতাই হলো মেয়ে শ্রাবন্তী। অর্থের অভাবে ছোট ছেলেটিকে রাখলেন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সংস্থায়।

শহুরে জীবনের নানা চড়াই-উৎরাই শেষে তিনি ফিরে এসেছেন নিজ এলাকা মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায়। নানান জায়গায় ঘুরে অবশেষে ঠাঁই মিলেছিল আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে। ছেলে মেহেদী হাসান রোমিওকে নিয়ে ছিলেন সেখানেই। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুদান হিসেবে পাওয়া ২০ লাখ টাকার সুদ দিয়ে চলছিলো তার সংসার।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad