শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধে সরকার প্রদত্ত সুদমুক্ত ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট শিল্প কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বুধবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি, বিজিএমইএ (বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন) সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতা কারখানার মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন, যার ফলে শ্রম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে সরকার বার্ডস গ্রুপ, টিএনজেড গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, ডার্ড গ্রুপ, নায়াগ্রা টেক্সটাইলস লি., রোয়ার ফ্যাশন লি., মাহমুদ জিন্স লি., স্টাইল ক্রাফট লি. এবং গোল্ডস্টার গার্মেন্টস লি.-কে অর্থ বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ চুক্তির আওতায় উক্ত অর্থ পরিশোধ করছে না।’
তিনি বলেন, ‘সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। পলাতক মালিকদের পাসপোর্ট জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
উপদেষ্টা সাখাওয়াত আরও বলেন, ‘এ ঋণের টাকা শ্রমিকদের পাওনা এবং জনগণের ট্যাক্সের টাকা। এ টাকা আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এই বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘লিয়েন ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিষ্ঠানগুলোর জমি, কারখানা এবং যন্ত্রপাতি বিক্রি করে হলেও ঋণের সমস্ত অর্থ ডিসেম্বর মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।’
এ বিষয়ে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ (বাংলাদেশ কাপড় ও পাট মিলে মালিক সমিতি)কে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানানো হয়।


