সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে গিয়েও আওয়ামী লীগের নেতারা চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ছেন-দলটির একাধিক নেতার বরাতে এমন খবর প্রকাশ করেছে ‘নিউজ-এইটটিন’।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, নেতাকর্মীদের টেলিগ্রাম গ্রুপে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনীকে অনুপ্রবেশের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও গ্রেপ্তার হতে হচ্ছে।
এছাড়াও, সাবেক এমপি ও মন্ত্রীদের মধ্যে অনেকেই টেলিগ্রামে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করছেন। এমনকি নতুন নতুন অননুমোদিত গ্রুপ তৈরি করা হচ্ছে, যেগুলোতে বাংলাদেশের গোয়েন্দা বাহিনী প্রবেশ করছে এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।
এক বছরের মধ্যে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুত নেতাকর্মীরা টেলিগ্রামকে নিজেদের একত্রিত হওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করছেন। এসব গ্রুপে ২০ থেকে ৩০ হাজার সদস্য রয়েছে এবং এসব বৈঠক রাত ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলতে থাকে। দলের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি সাবেক এমপি ও জেলা-উপজেলা নেতারা এতে অংশগ্রহণ করছেন।
নিউজ-এইটটিন আরও জানায়, শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকলে এসব বৈঠকেও চাঁদাবাজি হয়, যেখানে কারা বক্তৃতা দেবেন, তার জন্য টাকা লেনদেন হয়। এমন অভিযোগ উঠেছে যে, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই গ্রুপগুলোকে তার রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করছেন।
এছাড়া, টেলিগ্রাম গ্রুপগুলিতে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনের অনুপ্রবেশের অভিযোগও উঠেছে। নেতাকর্মীদের কথোপকথন রেকর্ড করা হচ্ছে এবং সেগুলোর ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হচ্ছে।
এদিকে, দলের শীর্ষ নেতারা বলেছেন, শেখ হাসিনা চান, নতুন নেতৃত্ব আসুক; তারা নতুন চিন্তা ও উদ্যোগ নিয়ে রাস্তায় নামুক। নেতাকর্মীরা শুধু কিবোর্ড যোদ্ধা হয়ে থাকুক, সেটা তিনি চান না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য শেখ হাসিনা নতুন নেতৃত্বের আহ্বান জানাচ্ছেন এবং নেতা-কর্মীদের রাজপথে নামার পরামর্শ দিয়েছেন।
তারা জানিয়েছেন, অনেক তথ্য ফাঁস হয়ে যাচ্ছে, এমন আশঙ্কা থেকে সবাইকে ভিপিএন ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।


