মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিনজনকে হত্যার প্রায় সাড়ে আট বছর পর মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এসকে. এম. তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সব আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন মো. জিয়ার উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
এ ছাড়া শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে, মজনু মিয়াকে এক বছর, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শামীম ও হাবু মিয়াকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আ ফ ম নুরতাজ আলম বাহার।
মামলার নথি অনুযায়ী, বাহরাইনে বসবাসকারী হাসিনা নামের এক নারী মারা যাওয়ার পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। স্বামী-সন্তান না থাকায় তার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে একাধিকবার সালিশ হলেও সমাধান হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তার স্বামী ও ছেলেরা সম্পত্তি ও অর্থ ভোগদখল করছিলেন।
২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বিরোধ নিষ্পত্তিতে সালিশ বৈঠকের কথা ছিল। এর আগে সকাল পৌনে ৮টার দিকে জসিম তার মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডাকেন। সেখানে পৌঁছালে রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
হামলায় তিনজন গুরুতর আহত হন। পরে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন মো. ফরিদা আক্তার।
২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলায় ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।


