খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) র্যাগিং, মারধর, হয়রানি ও মাদকসেবনের অভিযোগে ৩০ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে ১০ জনকে এক থেকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বাকিদের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনের অভিভাবকের কাছ থেকে মুচলেকাও নেওয়া হবে।
গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৮তম সভায় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বুধবার ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও বোর্ডের সদস্যসচিব অধ্যাপক মো. সালাউদ্দীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত বছরের ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে ছয় শিক্ষার্থীকে হয়রানির ঘটনায় ফউটে ডিসিপ্লিনের মো. ফারদিন আহমেদ দিপন এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের শেখ আমির মাহদ্বীন ও শেখ মুরসালিন রহমানকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এ বছরের ৬ মে ফউটে ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থী একই ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের হাতে র্যাগিংয়ের শিকার হন। এ ঘটনায় প্রণয় কুমার ঘোষকে দুই টার্ম বহিষ্কার ও ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মো. জুবায়ের হোসেনকে এক টার্ম বহিষ্কার ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
একই ঘটনায় অসিম দাস, তৌফিক মাহিনুল আহছান ও আব্দুল্লাহ আল সিফাতকে ১৫ হাজার টাকা করে এবং স্বপন কুমার দাশ, দেবাশীষ মণ্ডল ও সজল পালকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
গত ১২ মে আইন ডিসিপ্লিনের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আমানউল্লাহ আমানকে ফউটে ডিসিপ্লিনের আনুমানিক ২৫ শিক্ষার্থী মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীকে দুই টার্ম বহিষ্কার করা হয়েছে। সুদীপ কুমার নন্দী, মাহমুদুর রহমান, হেমেন্দ্র মৃধা, আসিফ আদনান, আজিজিল ইসলাম কাফফি, শেখ তাজবীদ ইসলাম, রাকিব হোসেন ও প্রণয় কুমার ঘোষকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
গত ১৪ আগস্ট রাতে হল রোডসংলগ্ন নয়ন সড়কের একটি আবাসিক বাসায় ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জোর করে ডেকে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় মুশফিকুল হক মাহিদকে দুই টার্ম বহিষ্কার ও ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মো. মারুফ সরোয়ারকে এক টার্ম বহিষ্কার ও ১৫ হাজার টাকা, মো. মিশন রহমান ও মো. খায়রুল ইসলামকে এক টার্ম বহিষ্কার ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। সাইদিস সালেহীন স্বপ্নীল, ঋত্বিক কর্মকার, সৌরভ চন্দ্র বর্মন ও রাগিব শাহরিয়ারকে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসের নির্মাণাধীন ৪ নম্বর একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে গাঁজাসহ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের তিন শিক্ষার্থীকে আটক করেন সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালকেরা। নিয়মিত টহলের সময় সন্ধ্যা ৭টায় তাদের আটক করা হয়।
এ ঘটনায় এস এম তৌফিক আলমকে দুই টার্ম বহিষ্কার ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মুশফিক উল ইসলামকে এক টার্ম বহিষ্কার ও ১০ হাজার টাকা এবং কাজী রিয়াজুস ছলেহীনকে এক টার্ম বহিষ্কার ও ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।


