স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসির তালিকা থেকে উত্তরণে আরও তিন বছর বাড়তি সময় পেল বাংলাদেশ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এই প্রস্তাব অনুমোদিত হওয়ায় এখন ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত এলডিসি উত্তোরণে সময় পেল বাংলাদেশ।
একই সঙ্গে নেপালের উত্তরণের সময়ও তিন বছর বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে শুরু হওয়া জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের প্ল্যানারি মিটিংয়ে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে গ্রুপ অব ৭৭ ও চীনের পক্ষে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে উরুগুয়ে। কোনো দেশ এর বিরোধিতা না করায় প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। আলোচনা চলাকালে ফ্রান্স, কানাডা ও আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিরাও বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর পক্ষে বক্তব্য রাখেন।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তিন বছর সময় চেয়ে আবেদন করে।
পরে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)-এর ইতিবাচক সুপারিশের পর বিষয়টি সাধারণ পরিষদে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আসে।
বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৮ সালে। যে সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে বাংলাদেশ অতিরিক্ত দুই বছর সময় পায়। এখন আবার বাড়তি তিন বছর সময় পেল দেশ।
স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ইউরোপের রপ্তানি বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়ে এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলে সেই সুবিধা থাকার কথা নয়। সময় বাড়ায় ২০২৯ সাল পর্যন্ত এলডিসি হিসেবে আগের মতই সুবিধা পাবে বাংলাদেশ।


