লাক্স সুপারস্টার ২০২৫-এর মুকুট জয়ের পর অভিনয়ে অভিষেক হচ্ছে বিদুষী বর্ণিতার। শিহাব শাহীন পরিচালিত ওয়েব ফিল্ম ‘ক্যাফে আমব্রেলা’য় দেখা যাচ্ছে তাকে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আইস্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি।
ওয়েব ফিল্মটিতে সামিরা নামের একজন অভিনেত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিদুষী। অভিনয়জীবনেও তার যাত্রা একদমই নতুন। তাই সামিরার সঙ্গে নিজের খুব একটা পার্থক্য অনুভব করেছেন না তিনি। চরিত্রটি তার জন্য যেমন চ্যালেঞ্জিং ছিল, তেমনি ছিল উপভোগ্য।
একজন ভিন্ন জগতের মানুষের চিন্তাভাবনা, অনুভূতি ও জীবনকে বোঝার পাশাপাশি সেগুলো পর্দায় ফুটিয়ে তোলার অভিজ্ঞতা বর্ণিতার কাছে ছিল নতুন। তিনি বলেন, ‘সামিরার গল্পে ভালোবাসা, সম্পর্কের মধ্যে কম্প্রোমাইজ, নিজের কাজ আর ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার মতো বিষয়গুলো দেখা যাবে। আমার মনে হয়, এই বিষয়গুলো অনেকের জীবনেই কোনো না কোনোভাবে প্রাসঙ্গিক। মানুষ রিলেট করতে পারবে।’
শিহাব শাহীন পরিচালকের সঙ্গে কাজের সুযোগ বর্ণিতার জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা। বর্ণিতা বলেন, ‘তার মতো পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার জন্য অবিস্মরণীয়। উনি অসাধারণ একজন পরিচালক। উনার কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, চরিত্র নিয়ে ভাবনা এবং গল্পকে পর্দায় তুলে ধরার প্রক্রিয়াটা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেলাম। উনি আমাদের কাছ থেকে অনেক কিছু বুঝিয়েছেন এবং শেখার সুযোগ করে দিয়েছেন। লাক্স সুপারস্টারের মাধ্যমে এই সুযোগ না পেলে এত অল্প সময়ে এমন অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব হতো না।’
‘ক্যাফে আমব্রেলা’য় সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেও আনন্দ পেয়েছেন বর্ণিতা। তিনি বলেন, ‘আমার সহশিল্পীদের সঙ্গেও কাজ করার অভিজ্ঞতা খুব ভালো ছিল। লাক্সের তিন বন্ধুর সঙ্গে আবার একসঙ্গে কাজ করতে পারাটা অন্য রকম আনন্দের।’
ওয়েব ফিল্মটিতে তার সহশিল্পী ছিলেন তৌসিফ মাহবুব। তার সহযোগিতার কথা বলতে গিয়ে বর্ণিতা বলেন, ‘উনি ভীষণ ভালো একজন মানুষ, খুবই আন্তরিক এবং সহযোগিতাপরায়ণ। শুটিংয়ের সময় উনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন, অনেক কিছু বুঝতে সাহায্য করেছেন। আমার মতো একজন নতুন অভিনেত্রীর জন্য সহশিল্পীদের কাছ থেকে এমন সহযোগিতা পাওয়াটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’
‘ক্যাফে আমব্রেলা’য় একাধিক জুটির গল্প রয়েছে। প্রতিটি গল্পের নিজস্বতা এবং সম্পর্কের ভিন্ন সমীকরণ দর্শকদের জন্য কাজটিকে আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে মনে করেন বর্ণিতা। ভালোবাসা, সম্পর্ক, পরিবার, ক্যারিয়ার ও জীবনের নানা দিক ঘিরে এগিয়েছে গল্পগুলো।
অভিনেত্রীর প্রত্যাশা, দর্শকেরা নিজেদের জীবনের সঙ্গে মেলে এমন কিছু না কিছু খুঁজে পাবেন। কোনো গল্প তাদের বেশি স্পর্শ করবে, কোনো চরিত্রের সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পাবেন, সেটি দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
শরিফুল রাজ ও বিদুষী বর্ণিতাকে নিয়ে রায়হান রাফি নির্মাণ করছেন একটি প্রেমের সিনেমা। আগামী ঈদ সামনে রেখে নির্মিতব্য এই সিনেমার নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সে সিনেমা নিয়ে মুখ খুলতে রাজি নান বিদুষী বর্ণিতা।
বিদুষী বর্ণিতার জন্ম রাজশাহীতে, বেড়ে ওঠা ঢাকাতে। মেহেবুব আলম ও মেরী ইয়াসমিন দম্পতির একমাত্র কন্যা। রেডিও ও দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন বাবা। মা–ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কাজকর্মে জড়িত ছিলেন। সংগীত শিক্ষালয় ছায়ানটে গান ও বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদের কাছে নাচ শেখেন বর্ণিতা। তার মধ্যেই মা–বাবার হাত ধরে ছোট্ট বয়সে শোবিজযাত্রা শুরু। শিশুশিল্পী হিসেবে নাসির উদ্দীন ইউসুফের ‘গেরিলা’ সিনেমায় অভিনয়। বর্ণিতার বয়স তখন ছয় কি সাত বছর। রেডিও এবিসিতে চাকরি করতেন বাবা। সেখানের জনপ্রিয় রেডিও শো ‘কি শুনাইলেন কিবরিয়া ভাই’–এর বিজ্ঞাপনে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল তার কণ্ঠ। এরপর বেশ কটি টেলিভিশন নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেন।


