চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন দ্বিতীয়বারের মতো নাকচ করেছেন আদালত। মহানগর দায়রা জজ আদালতেও জামিন না পাওয়ায় কারাগারেই থাকতে হচ্ছে তাকে।
বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক তাওহীদা আক্তার আসামিপক্ষের জামিন আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ৫ অক্টোবর সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনজুরুল ইসলাম আসামিপক্ষের জামিন আবেদন নাকচ করেন। ডনের আইনজীবী মো. মফিজুল ইসলাম আসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
জামিন আবেদনে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, সালমান শাহের মৃত্যুর দুইটি সুরতহাল রিপোর্ট দুইটি ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং ভিসেরা রিপোর্ট ও রাসায়নিক রিপোর্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ছাড়া তিনি দীর্ঘদিন হাজতবাসে রয়েছেন বলে জামিন আবেদনে বলা হয়।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে পাঠানো হয়। সিআইডির দাবি, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন খলনায়ক আশরাফুল হক ডন। তবে মামলার আগে, পরে ও ঘটনার সময় তার আচার-আচরণ ও চালচলন বিশ্লেষণ করে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় তার জড়িত থাকার বিষয়ে অনেক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে আদালতকে জানায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
ওই দিন রিমান্ড শেষে ডনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. মুজিবুর রহমান। আবেদনে বলা হয়, মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে ডন তাদের চেনেন বলে প্রকাশ করলেও মামলার অনেক তথ্য গোপন করছেন। সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তার সঙ্গে একত্রে চলাফেরা করার কারণে ডন সালমানের বিভিন্ন বিষয়ে অবগত ছিলেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, সালমান শাহর মৃত্যুর বিষয় ও মামলার ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে ডন অত্যন্ত কৌশলে কথা বলেন। মামলাটি অত্যন্ত আলোচিত ও চাঞ্চলকর হওয়ায় পাওয়া সব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। সিআইডি জানায়, ডন অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির হওয়ায় মামলার ঘটনা সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এ কারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।
এর আগে গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ২০ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে ২৭ আগস্ট আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে তার স্ত্রী সামীরা হক, সামীরার মা লতিফা হক লিও ওরফে লুসি ও খলনায়ক আশরাফুল হক ডনসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।


