অধিকার আদায়ে প্রতিরোধ ছাড়া বিকল্প নেই: নাহিদ

অধিকার আদায়ে প্রতিরোধ ছাড়া বিকল্প নেই: নাহিদ
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

সংস্কার বাস্তবায়ন না করায় সরকারকে গণবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

তিনি জনগণের অধিকার আদায়ে সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দলের গণসংযোগ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি খাত পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন তিনি। নাহিদের অভিযোগ, গত সাত মাসে দুই মন্ত্রী নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সংস্কার বাস্তবায়ন না করায় এই সরকারকে গণবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক বলা যায়। এ ধরনের সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া জনগণের অধিকার আদায় সম্ভব নয়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। গত সাত মাসে জ্বালানি খাতেও সরকার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দেশে সন্ত্রাস, মাদক কারবার ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, সাধারণ মানুষ, বিরোধী দল ও সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন চলছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, উচ্চমূল্যের কারণে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার পরিমাণ কমাতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নাহিদ বলেন, ‘যুদ্ধ যত দিন থাকবে, তত দিন কি তেলের দাম এ রকম বেশি থাকবে? যদি থাকে, তাহলে এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা কী?’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তার বক্তব্য দুঃখজনক। বিরোধী দল কারও সঙ্গে সমঝোতা বা আপস করছে না। বরং বিএনপি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচন করেছে। আওয়ামী লীগ ও ভারতের সঙ্গে লিয়াজোঁ করেই দেশ পরিচালনা করছে। এসব কারণেই সরকার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রের বন্দোবস্তের পরিবর্তন হয়নি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানান নাহিদ। প্রস্তাবিত সাইবার আইন সংশোধনী সংসদে না আনা এবং গুম-খুন ও জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবর ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণবিক্ষোভের ঘোষণা দেন নাহিদ। কর্মসূচি থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ বন্ধ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গঠনের দাবিও জানাবে এনসিপি। পরে সারা দেশেও গণবিক্ষোভ আয়োজনের ঘোষণা দেন তিনি।

একই কর্মসূচিতে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। ছিনতাই ও চাঁদাবাজি চললেও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর পরিবর্তে সংবিধান সংশোধনের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।

আখতার হোসেন বলেন, সরকার জনগণের গণভোটের রায় উপেক্ষা করে একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানান।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার দলীয়করণ বন্ধ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করছে না।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়োগ বন্ধের দাবিতে তারা রাজপথে নেমেছেন। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দেওয়া হলেও দেশে সিন্ডিকেটের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে।

নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘এটা কোনো দলের দাবি নয়। দল-মত নির্বিশেষে ধনী-গরিব সবার দাবি, আমরা পেটে খাবার চাই, সুস্থভাবে বাঁচতে চাই এবং সবকিছু ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে চাই।’

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতির উন্নতির আশা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সংকট বেড়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের ভোগান্তি দ্রুত কমাতে হবে। কিন্তু এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের যথেষ্ট উদ্যোগ নেই। বরং দায়িত্ব পালনে অবহেলা দেখা যাচ্ছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad