ক্রমেই ক্ষীণ হচ্ছে ট্রাম্প-কিম বৈঠকের সম্ভাবনা

ক্রমেই ক্ষীণ হচ্ছে ট্রাম্প-কিম বৈঠকের সম্ভাবনা
প্রথম মেয়াদে কিম জং উনের সঙ্গে তিন বার বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে চলতি বছর দ্বিপক্ষীয়  বৈঠকের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট পাঁচ কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তাদের মধ্যে চারজন যুক্তরাষ্ট্রের এবং একজন দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পই যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র প্রেসিডেন্ট, যিনি উত্তর কোরিয়ার কোনো নেতার সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন। সম্প্রতি তিনি আবারও কিম জং উনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের ইচ্ছা জানান।

তবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্যে ট্রাম্পের এই কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাবে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না পিয়ংইয়ং।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে বৈঠকের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে কোনো সাড়া পায়নি। আগামী মাসে চীনে অনুষ্ঠেয় আঞ্চলিক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সম্ভাব্য বৈঠক আয়োজনের জন্যও সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে সম্মত হওয়ার আগে পিয়ংইয়ং কঠোর শর্ত দিতে পারে। এসব শর্তের মধ্যে দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার দাবিও থাকতে পারে।

তবে কিম জং উনের বোন ও ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা কিম ইয়ো জং বলেছেন, ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে ‘চমৎকার’ সম্পর্ক রয়েছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, গত আগস্টে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, চলতি বছরের শেষ দিকে তিনি কিমের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করছেন। উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়াও পেয়েছেন বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।

গত মাসের শেষ দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা দেশটির আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছিল, আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর চীনের শেনঝেনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প ও কিমের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ।

আরও পড়ুন: কিমের সঙ্গে বৈঠক চান ট্রাম্প, উত্তর কোরিয়া বলল ‘ধৈর্য ধরুন’

কিন্তু সোমবার ট্রাম্প নিজেই সেই সম্ভাবনাকে আর খুব একটা পাত্তা দেননি। তিনি বলেন, চীনে অনুষ্ঠেয় ওই সম্মেলন কিংবা নভেম্বরে ফিলিপাইনে অনুষ্ঠেয় আরেকটি আঞ্চলিক শীর্ষ সম্মেলনের সময় কিমের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো। তবে কেউ আদৌ বৈঠকের অনুরোধ করছে কি না, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।’

প্রথম মেয়াদে কিম জং উনের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু এবার নতুন কোনো বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতির লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দক্ষিণ কোরিয়ার আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন কোনো পদক্ষেপ পিয়ংইয়ং এখন পর্যন্ত নেয়নি।

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কাং কিয়ং-হোয়া জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প-কিম শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো অগ্রগতি হয়নি।

জাতিসংঘে উত্তর কোরিয়ার স্থায়ী মিশন মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তিনটি ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠক করেছিলেন, যা কোরীয় উপদ্বীপে স্থিতিশীলতা এনেছিল।’

‘উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই কিম জং উনের সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী। তবে এই মুহূর্তে নতুন কোনো বৈঠকের ঘোষণা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। উপযুক্ত সময়ে দুই নেতার বৈঠক হবে’, যোগ করেন তিনি।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘সব দ্বন্দ্ব ভুলে ট্রাম্প কিমের সঙ্গে কথা বলতে প্রস্তুত রয়েছেন। এখন সিদ্ধান্ত পুরোপুরি উত্তর কোরিয়ার হাতে।’

আন্তর্জাতিক শান্তিবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের পারমাণবিক নীতি কর্মসূচির জ্যেষ্ঠ গবেষক অঙ্কিত পান্ডা বলেছেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের সময় ট্রাম্প ও কিমের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশেরও কম।

‘ট্রাম্প যদি কিমের সঙ্গে বৈঠক করতে চান, তাহলে আমার মনে হয় উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এমন প্রকাশ্য পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে, যার জন্য ওয়াশিংটনকে চড়া মূল্য দিতে হবে’, যোগ করেন তিনি।

অঙ্কিত পান্ডার মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসর সম্প্রতি কমানোর যে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছে, তাতে উত্তর কোরিয়া আলোচনায় ফেরার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সন্তুষ্ট হয়নি।

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার পথ খুলতে ওয়াশিংটন বিভিন্ন সময়ে চীনের সহায়তাও চেয়েছে। বেইজিংয়ের সঙ্গে কিম জং উনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে সম্প্রতি সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হলেও উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসেনি।

উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধের লড়াই অস্ত্রবিরতির মাধ্যমে বন্ধ হলেও দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি হয়নি।

উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ সেনা এবং বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন রয়েছে।

অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের হিসাবের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে বর্তমানে ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরক অংশ বা পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকতে পারে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে কিম জং উনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলো ঐতিহাসিক হিসেবে বিবেচিত হলেও সেগুলো থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ফল পাওয়া যায়নি।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল স্টিল জানিয়েছেন, দুই নেতার মধ্যে বৈঠক হলে তার ঘোষণা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আসতে পারে।

বুধবার সিউলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন কোরিয়া আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, তাদের বৈঠক কবে হবে। তবে বৈঠকের আয়োজন করা সম্ভব হলে তা হঠাৎ করেই ঘোষণা হতে পারে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad