শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ নির্দেশনা

শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ নির্দেশনা
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লোগো। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

শুষ্ক মৌসুমে আগুন লাগার ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। অসাবধানতা ও অসচেতনতার কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বেড়ে যায় উল্লেখ করে সংস্থাটি অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৩টি নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

সোমবার ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সচেতনতামূলক বার্তায় এসব নির্দেশনার কথা জানানো হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে ‘অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩’ এবং এ-সংক্রান্ত অন্যান্য আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে। ভবন নির্মাণের সময় অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং পরিকল্পনায় উল্লেখিত শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

রান্নার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রান্না শেষে চুলা ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ রাখতে হবে। গ্যাসের চুলা নেভাতে ফুঁ দেওয়া যাবে না; চুলার নব ভালোভাবে বন্ধ করতে হবে। চুলা জ্বালানোর আগে রান্নাঘরের দরজা-জানালা খুলে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। রান্নাঘরে গ্যাস জমে থাকলে চুলা জ্বালানো অত্যন্ত বিপজ্জনক।

এ ছাড়া বৈদ্যুতিক সংযোগ, তার, সুইচ ও যন্ত্রপাতি নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার এবং অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক লোড এড়িয়ে চলতে হবে।

আরও পড়ুন

ধূমপানের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ সম্পূর্ণ নিভিয়ে নির্ধারিত নিরাপদ স্থানে ফেলতে হবে। শিশুদের আগুন, দিয়াশলাই ও লাইটার নিয়ে খেলতে দেওয়া যাবে না। দাহ্যবস্তুর গুদামে খোলা বাতি ও মশার কয়েল ব্যবহার থেকেও বিরত থাকতে হবে

ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বাসাবাড়ি, কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখতে হবে। এসব যন্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা অর্জনের পাশাপাশি নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা মহড়ার আয়োজন করতে হবে। অগ্নিপ্রতিরোধ, অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধারকাজ ও প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ নিতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ফ্ল্যাট, বসতঘর বা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের পর দরজা-জানালা খুলে বাতাস চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে বা গ্যাস জমে থাকার আশঙ্কা থাকলে বৈদ্যুতিক সুইচ, আগুন কিংবা দিয়াশলাই জ্বালানো যাবে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে জরুরি সহায়তা নিতে হবে।

হোটেল ও রেস্তোরাঁয় গ্যাস সিলিন্ডার, গ্যাসের চুলা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করার পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পেতে নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনের যোগাযোগ নম্বর সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন ১০২ অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের বার্তায় বলা হয়, অগ্নিদুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষার সর্বোত্তম উপায় হলো প্রতিরোধ। তাই অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad