দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রথীন্দ্রনাথ রায়ের বিরুদ্ধে প্রসাশনিক ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কাজ করার পরও স্লিপ ফান্ডের টাকা না দেওয়া, হয়রানিমূলক কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) বা তলবের মাধ্যমে ভয়-ভীতি প্রদর্শন, বিভাগীয় মামলার ভয় দেখানো এমনকি সাময়িক বরখাস্তসহ একাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ এনে শিক্ষকদের পক্ষে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক বাস্তবায়নে শিক্ষকরা যখন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার রথীন্দ্রনাথ রায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসারের দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই তার এমন কর্মকাণ্ডে সাধারণ শিক্ষকরা অতিষ্ঠ।
অভিযোগকারী শিক্ষকদের মতে, একজন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাজ হলো বিদ্যালয় মনিটরিং এবং শিক্ষকদের মেন্টরিং করা, কিন্তু তিনি মনিটরিং ও মেন্টরিংয়ের পরিবর্তে শিক্ষকদের সাথে অমানবিক আচরণ এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদর্শন করছেন, যা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তিনি শিক্ষা অফিসের মধ্যে অন্য সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের নিয়ে গ্রুপিং চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ এসেছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, বোচাগঞ্জের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র প্রধান শিক্ষকদের নেতৃত্বে হওয়ার কথা থাকলেও রথীন্দ্রনাথ রায় সদস্য সচিবের দায়িত্বে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও ইউনিয়নভিত্তিক বিতরণসহ সব দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধে প্রত্যেকটি প্রশ্নপত্রের সেট গত কয়েক বছরে ২৫ টাকা, ২০ টাকা, ১৫ টাকা এবং সবশেষ ১০ টাকা দরে বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর প্রগতিপত্র ও পঞ্চম শ্রেণির প্রত্যয়নপত্র বেশি দরে শিক্ষকদের কাছে বিক্রি করেন রবীন্দ্রনাথ। কোনো বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার কাছ থেকে এসব নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে তিনি ওই বিদ্যালয়ে ঘন ঘন পরিদর্শন করে তাকে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক ফাঁদে ফেলে শোকজসহ সাসপেন্ডের হুমকি দেন।
তিনি বিগত সময়ে অনুষ্ঠিত সাব-ক্লাস্টারের টাকা শিক্ষকদের না দিয়ে আত্মসাৎ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সহকারী শিক্ষা অফিসার ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত বোচাগঞ্জ শিক্ষা অফিসার রথীন্দ্রনাথ রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি দায়িত্ব পাওয়ার আগে ও পরে সততা, নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছি। গুটি কয়েকজন শিক্ষক আমার কাছে প্রশ্রয় না পাওয়ায় ও তাদের নিজ স্বার্থ হাসিল করতে না পারার কারণে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’


