বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা সরবরাহ বন্ধ রেখে দাবি আদায়ের চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—জ্বালানিমন্ত্রীর এমন হুঁশিয়ারির পর দুই দিনের এলপিজি ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন ব্যবসায়ীরা।
বুধবার বিকালে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেয় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড।
ব্যবসায়ীদের সাত দফা দাবি নিয়ে আগামী ২৯ অক্টোবর গণশুনানির আশ্বাস পাওয়ার পর আপাতত কর্মসূচি থেকে সরে এসেছেন তারা।
সমিতির কোষাধ্যক্ষ তাহের কোরায়েশি টাইমসকে জানান, গণশুনানিতে দাবিগুলোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, তা দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন তারা।
গত সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বৃহস্পতি ও শুক্রবার সারা দেশে এলপিজি বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতি। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কমিশন বৃদ্ধি, সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধসহ বিভিন্ন সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত রয়েছে। এসব বিষয়ে সমাধান না হলে দুই দিনের কর্মসূচির পর আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তারা।
ধর্মঘটের আগের দিন বুধবার সকালে সচিবালয়ে এলপিজি আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
বৈঠক শেষে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘পণ্য সরবরাহ ব্যাহত করে বারবার দাম বাড়ানোর চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। এলপিজি সরবরাহ বন্ধ রেখে জনগণকে জিম্মি করা কিংবা বাজারে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ব্যবসায়ীদের আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের পক্ষ থেকে এই কঠোর অবস্থান জানানোর পর ব্যবসায়ীরা বিইআরসির সঙ্গে আলোচনায় বসেন।
ব্যবসায়ীদের দাবির মধ্যে অন্যতম হলো, প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে পরিবেশকদের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করা। এ ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ব্যবসায়ীদের প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধের দাবিও রয়েছে।
কমিশনসংক্রান্ত বিষয়সহ এসব দাবির নিষ্পত্তিতে গণশুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং আমদানির উৎস নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে এলপিজি সরবরাহে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব সামলাতে বেসরকারি আমদানিকারকদের বিকল্প উৎস খুঁজতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ভোক্তাদের সহনীয় দামে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করছে সরকার। সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে বিইআরসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে এলপিজির দাম বেশি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ভারতে নির্দিষ্ট কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীদের ভর্তুকি দিয়ে কম দামে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বাংলাদেশে এ ধরনের ভর্তুকি নেই। এখানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানি করা এলপিজি উন্মুক্ত বাজারে বিক্রি করে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের কমিশন, সরকার যৌক্তিক দাবিগুলো শুনতে ও সমাধানে উদ্যোগ নিতে প্রস্তুত। তবে দাবি আদায়ের নামে বাজারব্যবস্থার অপব্যবহার কিংবা জনস্বার্থবিরোধী পরিস্থিতি তৈরি করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, ধর্মঘটের ঘোষণার সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজির সরবরাহ সংকট চলছিল। অনেক স্থানে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছিল না; কোথাও পাওয়া গেলেও বিক্রি হচ্ছিল নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে। গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি।
কিন্তু বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। সরবরাহ ঘাটতিকে সংকটের কারণ হিসেবে দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।


