হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েলের সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান সৌদির

হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েলের সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান সৌদির
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর রিয়াদে। ছবি: এএফপি/বাসস
Advertisement
Advertisement

ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের দেওয়া প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

সৌদি আরবের ইতিবাচক সাড়া পেতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক চেষ্টা চালানো হলেও যুবরাজ এতে সম্মতি দেননি। সোমবার ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনৈতিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ সামরিক সহায়তা নিতে মোটেও আগ্রহী নন সৌদি যুবরাজ। তিনি আশঙ্কা করছেন, ইসরায়েল থেকে যেকোনো ধরনের সামরিক সহায়তা নিলে সৌদি নাগরিকদের মধ্যে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। মূলত এই জনরোষ এড়াতেই তিনি মার্কিন মধ্যস্থতার প্রস্তাবটি নাকচ করে দিয়েছেন।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্রের ভাষ্য, ইয়েমেনের যৌথ অভিযানের উসিলায় সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে চেয়েছিল ইসরায়েল। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তির পথও সুগম করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।

তবে ইসরায়েলের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধান, বিশেষ করে স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন বা স্বাভাবিকীকরণের চুক্তিতে যাবে না বলে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান স্পষ্ট করে আসছে রিয়াদ।

আরও পড়ুন

সৌদি আরবের অভ্যন্তরে হুথিদের হামলা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পরই ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই সামরিক সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়। গত কয়েক দিনে হুথিরা দেশটির বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে ব্যাপক প্রাণহানির পাশাপাশি সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রথমে ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হন। পরবর্তীকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ জনে।

শনিবারের এই হামলার পরপরই তা প্রত্যাখ্যান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেখেন, ‘এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাই, যেখানে নিরীহ মানুষের প্রাণ গেছে এবং আহত হয়েছেন শত শত মানুষ। ইসরায়েলের জনগণের পক্ষ থেকে আমি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’

এর পরের দিন অর্থাৎ রোববার একই রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও হামলা চালায় হুথিরা। দ্বিতীয় দিনের এই হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন এবং আরও অন্তত ১১ জন আহত হন বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইয়েমেন ও সৌদি সীমান্তে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল। তবে আঞ্চলিক টানাপোড়েন ও ইরান যুদ্ধের জেরে গত জুলাই থেকে এই স্থিতিশীলতার অবনতি ঘটে এবং হুথিদের হামলা ব্যাপকভাবে বাড়তে শুরু করে।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ দখল করে নিলে সেখানে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালের মার্চে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সেখানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad