সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে দফায় দফায় মারধর এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে ছিনিয়ে নিয়ে পুনরায় মারধরের পর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানায় সংস্থাটি।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবর প্রথম দফায় মারধরের শিকার শামীমকে পুলিশ উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে একদল ব্যক্তি হাসপাতালে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন এবং সেখান থেকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে পুনরায় আঘাত করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এইচআরএসএস জানায়, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননা বা অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ উঠলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনি দেওয়া বা হত্যা করার কোনো অধিকার কারও নেই।
হাসপাতালের মতো নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার স্থান থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নিয়ে হামলা চালানো আইনের শাসন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, এ ঘটনায় প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি বা নিষ্ক্রিয়তা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যম ও জনসাধারণকে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে স্বচ্ছতার সঙ্গে অবহিত করার দাবি জানানো হয়।
এই ঘটনায় এইচআরএসএস বিভিন্ন দাবি জানায়। এগুলো হলো ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের মৃত্যুর ঘটনায় একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সব ব্যক্তিকে শনাক্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়া, তার ওপর পুনরায় হামলা এবং পরবর্তী সময়ে তার মৃত্যুর ঘটনাপ্রবাহে কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্ত করতে হবে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা, নিষ্ক্রিয়তা বা দায়িত্বের অপব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ, হাসপাতাল ও প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করে প্রমাণসাপেক্ষে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা ও সুরক্ষা দিতে হবে। এ ঘটনায় গৃহীত তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে জনসাধারণকে নিয়মিত ও স্বচ্ছভাবে অবহিত করতে হবে, যাতে দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি না হয় এবং ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা বজায় থাকে।
এইচআরএসএস বলছে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের জীবন ও মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব অপরিহার্য। অভিযোগের বিচার হবে আইনের মাধ্যমে, জনতার হাতে নয়।


